যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এপস্টেইন সম্পর্কিত নতুন নথি প্রকাশ করেছে। এই নথিগুলোর মধ্যে এক ই‑মেইলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবির নাম উঠে এসেছে। ফাইলগুলোতে ই‑মেইলের বিষয়বস্তু এবং প্রস্তাবিত সহযোগিতার শর্তাবলী উল্লেখ করা হয়েছে।
ই‑মেইলে আইসিডিডিআরবিকে বাংলাদেশে ‘অতি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রোবায়োটিক গবেষণায় বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুসারে, সরকার-ব্যক্তি অংশীদারিত্বে একটি গবেষণা উদ্যোগ গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে কম মূলধনে ভবিষ্যতে উৎপাদিত প্রোবায়োটিক বা সংশ্লিষ্ট পণ্যের মুনাফার ৩ শতাংশ লাভের অংশ নিশ্চিত করা হবে।
অতিরিক্তভাবে, ই‑মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে যে আইসিডিডিআরবি একটি দাতব্য সংস্থা হিসেবে স্বীকৃত, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০১(সি)(৩) কর কাঠামোর অধীনে বিনিয়োগে কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া সম্ভব। এই শর্তগুলোকে কাজে লাগিয়ে উভয় পক্ষের জন্য আর্থিক ও বৈজ্ঞানিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ফাইলগুলোতে আরেকটি ই‑মেইলও রয়েছে, যেখানে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও ভারতের সফর করেছেন বলে উল্লেখ আছে। তবে সফরের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো বিশদ তথ্য নথিতে পাওয়া যায়নি।
এই নথিগুলো প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থা বর্তমানে এপস্টেইন ফাইলগুলো বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো অবৈধ লেনদেনের সম্ভাবনা যাচাই করছে। আইসিডিডিআরবির ক্ষেত্রে, নথিতে উল্লেখিত প্রস্তাবের বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং আইনগত দিক নিয়ে পর্যালোচনা চলমান।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এই তথ্যের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছে। আইসিডিডিআরবির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নথিতে উল্লেখিত প্রস্তাবের প্রকৃত স্বরূপ এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার শর্তাবলী স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এপস্টেইন ফাইলের প্রকাশের পর, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অতিরিক্ত নথি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরবরাহ করতে পারে।
এই ঘটনায়, আইসিডিডিআরবির গবেষণা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নৈতিক দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে কাজ করতে হবে এবং কোনো অবৈধ আর্থিক প্রস্তাব থেকে দূরে থাকতে হবে।
সারসংক্ষেপে, এপস্টেইন ফাইলে আইসিডিডিআরবির উল্লেখ নতুন আলোচনার সূচনা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারী সংস্থার কাজের পরিধি বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে কী ধরণের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কীভাবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



