28 C
Dhaka
Saturday, May 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপটুয়াখালী-৩-এ আওয়ামী লীগের প্রার্থী অনুপস্থিত, চার প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই শুরু

পটুয়াখালী-৩-এ আওয়ামী লীগের প্রার্থী অনুপস্থিত, চার প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই শুরু

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা‑দশমিনা) আসনে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে নৌকা চিহ্নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ধারাবাহিকভাবে জয়ী হওয়ায় এই বছরও একই রকম প্রত্যাশা করা হচ্ছিল, তবে শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ার ফলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা এই আসনটি ১৯৯৬ সালের জুনের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে নৌকা মার্কার প্রার্থীর জয় দিয়ে চলেছে। ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও, ২০২৬ সালের নির্বাচনে নৌকা চিহ্নের প্রার্থী অনুপস্থিতি ভোটের গতি পরিবর্তন করেছে।

এই নির্বাচনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রথমজন হলেন বিএনপির সমঝোতা প্রার্থী, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুরের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, যাকে ট্রাকের প্রতীক দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। দ্বিতীয় প্রার্থী হলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুন, যাকে ঘোড়ার প্রতীক দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। তৃতীয় প্রার্থী হলেন জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী, অধ্যাপক মু. শাহ আলম, যাকে দাঁড়িপাল্লা চিহ্ন দিয়ে প্রচার করা হয়েছে। চতুর্থ প্রার্থী হলেন ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ মাওলানা মুফতি আবু বকর সিদ্দীক, যাকে হাতপাখা প্রতীক দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রচার চিহ্ন নির্বাচনের মাঠে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। নুরুল হক নুরের ট্রাক প্রতীক রাস্তায় বড় ব্যানারে ঝলমল করছে, আর হাসান মামুনের ঘোড়া চিহ্ন গাঁয়ের মিটিং হলে দেখা যাচ্ছে। জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী শাহ আলমের দাঁড়িপাল্লা চিহ্ন গ্রামভিত্তিক সমাবেশে ব্যবহার করা হয়েছে, আর ইসলামী আন্দোলনের সিদ্দীক তার হাতপাখা প্রতীক দিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন।

হাসান মামুন পূর্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ছিলেন। সমঝোতা প্রার্থী নুরুল হক নুরের বিরোধে তার স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ফলে দল থেকে তাকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে। এই ঘটনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে প্রকাশ করে এবং নির্বাচনী গতিবিধিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

গলাচিপা বাজার থেকে গলাচিপা নদী পার হয়ে গলাচিপা গ্রামে পৌঁছানোর পর, স্থানীয় গ্রাম ও মহল্লার প্রায় ত্রিশজনের সঙ্গে ভোটের প্রবণতা ও গণনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ভোটাররা উল্লেখ করেছেন যে, পূর্বে নৌকা চিহ্নের প্রার্থী না থাকলে ভোটের ভাগাভাগি কীভাবে হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তারা প্রত্যাশা করছেন যে, প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রচার শক্তি ও স্থানীয় সংযোগই ভোটের মূল নির্ধারক হবে।

নৌকা চিহ্নের অনুপস্থিতি ভোটের সমীকরণকে ভেঙে দিয়েছে; এখন ভোটারদের পছন্দ নির্ভর করবে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, প্রতীকী প্রচার এবং স্থানীয় সংগঠনের ওপর। গলাচিপা-দশমিনার গ্রামগুলোতে প্রচারমূলক রেলি, মঞ্চে বক্তৃতা এবং ঘরে ঘরে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতা চালু রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোন প্রার্থী ভোটের ভারসাম্য টানবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

নির্বাচন ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে, এবং ফলাফল গলাচিপা-দশমিনার রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুনর্গঠন করতে পারে। প্রার্থীরা এখনো ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তুলছেন, এবং প্রতিটি দল তাদের প্রচার চিহ্নের মাধ্যমে স্বীকৃতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

পটুয়াখালী-৩ আসনের এই পরিবর্তনশীল দৃশ্যপট দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন ঐতিহ্যবাহী শক্তি আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নতুন শক্তিগুলো উন্মোচিত হচ্ছে। ভোটের ফলাফল কীভাবে গঠন হবে, তা পরবর্তী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে, তবে বর্তমান পর্যায়ে দেখা যায় যে, স্থানীয় স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments