ট্রেভর নোয়া ২০২৪ সালের ৬৮তম গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানে Crypto.com Arena-তে মঞ্চে উঠে উদ্বোধনী মনোলগ উপস্থাপন করেন। তিনি অনুষ্ঠানের হোস্ট হিসেবে উপস্থিত থেকে শোয়ের শুরুতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলোকে হালকা রসিকতার মাধ্যমে তুলে ধরেন। নোয়ার মন্তব্যগুলো প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উদ্বেগ ও মিডিয়া ব্যবহারের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
মোনোলগের প্রথম অংশে নোয়া উল্লেখ করেন যে, এখন সংবাদ চালু করার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ পানীয় গ্রহণের খেলা শুরু করে। তিনি এই প্রবণতাকে “প্রতিবার খবর চালু করলে এক গ্লাস পানীয়” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা দেশের সামগ্রিক উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
এরপর নোয়া জেফ বেজোসের কাল্পনিক বিবাহের কথা উল্লেখ করে বলেন, “এতজন তারকা এখানে, যেন আমি জেফ বেজোসের বিবাহে আছি, তবে এখানে আরও বেশি কালো মানুষ আছে।” এই রসিকতা বেজোসের উচ্চ-প্রোফাইল বিবাহের সঙ্গে গ্র্যামি শোয়ের বৈচিত্র্যময় উপস্থিতি তুলনা করে।
নোয়া ১৯৯৯ সালে লরিন হিলের শেষ গ্র্যামি পারফরম্যান্সের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং একই বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের যৌনকাণ্ডের স্ক্যান্ডাল, কম্পিউটার বিশ্ব ধ্বংস করবে এমন ভয় এবং ডিডির গ্রেপ্তারকে উল্লেখ করেন। তিনি এই ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে “কতটা বদলে গেছে” বলে সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন।
যুব গায়ক জাস্টিন বিবারের প্রতি নোয়া প্রশংসা ছড়িয়ে দেন, বিশেষ করে বিবারের অ্যাপলকে ডিক্টেশন বাটন সরাতে অনুরোধের জন্য তিনি তাকে “হিরো” বলে সম্বোধন করেন। নোয়া আরও বিবারকে অনুরোধ করেন, যেন তিনি ফোনে অনুসন্ধান করার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের নতুন ফিচার যোগ করতে সাহায্য করেন।
নোয়া উল্লেখ করেন নিকি মিনাজ গ্র্যামিতে উপস্থিত নেই এবং তিনি বর্তমানে হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। এই মন্তব্যটি নিকি মিনাজের অনুপস্থিতি এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের সংযোগকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে।
এরপর নোয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের নকল করে বলেন, “আসলে, নিকি, আমার সবচেয়ে বড় পাছা আছে, সবাই তা বলছে।” তিনি এই বাক্যটি “WAP, WAP, WAP” গানের সুরে গাইতে থাকেন, যা গ্র্যামি শোয়ের রসিকতা ও পপ সংস্কৃতির মিশ্রণকে প্রকাশ করে।
ডুএচি নামের গায়িকা এবং তার হিট গান “Anxiety”-কে নোয়া নতুন জাতীয় সঙ্গীতেরূপে উল্লেখ করেন। তিনি এই গানের শিরোনামকে বর্তমান দেশের মানসিক অবস্থা ও উদ্বেগের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।
অলিভিয়া ডিনের নামও নোয়া উল্লেখ করেন, যিনি সর্বোত্তম নতুন শিল্পী বিভাগে মনোনীত। ডিন টিকিটমাস্টারকে পুনর্বিক্রেতা থেকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করেছেন, যা ভক্তদের টিকিটের দাম কমাতে এবং লাইভ কনসার্টের প্রবেশযোগ্যতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
নোয়া জোর দিয়ে বলেন, টিকিটের দাম যদি ভক্তদের সামর্থ্যের বাইরে যায়, তবে সরাসরি সঙ্গীতের অভিজ্ঞতা হারিয়ে যাবে। তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরে শিল্প জগতের টিকিটমাস্টার ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের ন্যায়সঙ্গত নীতি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
শোয়ের শেষের দিকে নোয়া দর্শকদের হাসি ও তালি পেয়ে মঞ্চ ত্যাগ করেন। তার রসিকতা ও সমসাময়িক মন্তব্যগুলো গ্র্যামি শোকে শুধু সঙ্গীতের উদযাপন নয়, বরং বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ের প্রতিফলন হিসেবে উপস্থাপন করেছে।



