সারাহ ফারগুসন, প্রিন্সেস বিয়াট্রিস ও ইউজেনি, এবং প্রিন্স অ্যান্ড্রু সম্পর্কিত ইপস্টেইন ইমেইলগুলো সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। ইমেইলগুলো ২০০৮ সালের দণ্ডের পরের সময়ে লেখা, এবং ফারগুসনের ইপস্টেইনের প্রতি প্রশংসা, আর্থিক অনুরোধ এবং কন্যাদের উল্লেখ রয়েছে। এই তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত সুনামহানি সৃষ্টি করতে পারে।
ইমেইলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আদালত থেকে প্রকাশিত হয়, এবং ফারগুসন ও ইপস্টেইনের মধ্যে বন্ধুত্বের গভীরতা প্রকাশ করে। ২০০৯ সালে ফারগুসন ইপস্টেইনকে তার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও বই প্রকাশের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানিয়েছেন। তিনি ইপস্টেইনের লাঞ্চের পর এক সপ্তাহে তার কাজের উত্সাহ বাড়ে, এবং তার কন্যাদের সামনে ইপস্টেইনের প্রশংসা তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
ফারগুসন ইপস্টেইনকে “যে ভাই আমি সবসময় চেয়েছি” বলে উল্লেখ করেছেন এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পরের বছর, ২০১০ সালের একটি মেইলে তিনি ইপস্টেইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তাকে “একজন কিংবদন্তি” বলে প্রশংসা করেন এবং তার উদারতা ও দয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। মেইলের শেষে তিনি “বিবাহের প্রস্তাব” উল্লেখ করে ইপস্টেইনের প্রতি তার নিবেদন প্রকাশ করেন।
ইমেইলগুলোতে ফারগুসনের আর্থিক চাহিদার উল্লেখও রয়েছে। তিনি ইপস্টেইনকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের অনুরোধ করেন, যার মধ্যে ভাড়া সহায়তার জন্য £২০,০০০ চাওয়া অন্তর্ভুক্ত। ফারগুসনের কন্যা ইউজেনির নামও এক অনামী প্রেরকের মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রেরক ইউজেনির “শাগিং উইকএন্ড” সম্পর্কে ইপস্টেইনকে জানিয়েছেন, যদিও সেই সময়ের কোনো অপরাধের প্রমাণ মেইলে নেই।
বিয়াট্রিসের নামও একই ফাইলের কিছু অংশে উল্লেখ রয়েছে, তবে সেসব উল্লেখের বিষয়বস্তু সীমিত এবং কোনো অবৈধ কার্যকলাপের ইঙ্গিত দেয় না। সব মেইলই ২০০৮ সালের দণ্ডের পরের সময়ে লেখা, যা ইপস্টেইনের অপরাধমূলক রেকর্ডের পরের সময়।
ইপস্টেইন ২০০৮ সালে নাবালিকদের যৌন শোষণ ও মানব পাচারের জন্য দণ্ডিত হয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পরেও তার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এই মেইলগুলো সেই প্রচেষ্টার অংশ।
প্রিন্স অ্যান্ড্রু এই ইমেইলগুলো সম্পর্কে পূর্বে কোনো অবৈধ কাজের অস্বীকার করেছেন এবং তার অফিস থেকে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বর্তমানে তার অফিস থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফারগুসনের প্রতিনিধি দলকেও একই সময়ে যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে তাদের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতি মিডিয়ার নজরে আনা হয়েছে এবং জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রকাশিত মেইলগুলোতে কোনো অপরাধের সরাসরি প্রমাণ নেই, তবে ইপস্টেইনের সাথে ব্যক্তিগত ও আর্থিক সম্পর্কের সূক্ষ্মতা তদন্তের বিষয় হতে পারে। যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা নেই।
তবে, এই ধরনের নথি প্রকাশের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অতিরিক্ত তদন্তের সম্ভাবনা বাড়ছে। বিশেষ করে ফারগুসনের আর্থিক লেনদেন ও কন্যাদের উল্লেখের প্রেক্ষাপটে পুলিশ বা অন্যান্য সংস্থার অনুসন্ধান হতে পারে।
বর্তমানে, এই ইমেইলগুলোকে ভিত্তি করে কোনো আইনি মামলা দায়ের করা হয়নি, এবং আদালতে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখনও দাখিল হয়নি। তবে, ভবিষ্যতে তথ্যের বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহের মাধ্যমে নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে।
সংক্ষেপে, সম্প্রতি প্রকাশিত ইপস্টেইন ইমেইলগুলোতে ডাচেস অফ ইয়র্কের ইপস্টেইনের প্রতি প্রশংসা, আর্থিক অনুরোধ এবং কন্যাদের উল্লেখ রয়েছে, তবে সেগুলোতে কোনো অপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ নেই। সংশ্লিষ্ট পক্ষের অফিস থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, এবং তদন্তের দিকনির্দেশনা এখনও অনিশ্চিত।



