মিনিস্ট্রি অফ ফাইন্যান্সের প্রধান নরমলা সীতারামন রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের ২০২৬‑২৭ আর্থিক বছরের কেন্দ্রীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেটের মূল লক্ষ্য ‘উন্নত ভারত’ গঠন, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেটের প্রথম দিকেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্যে হ্রাস আনা হবে। বিশেষ করে ক্যান্সার রোগীদের জন্য ১৭টি নির্দিষ্ট ওষুধের ওপর আরোপিত মৌলিক শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে, যা রোগীর আর্থিক বোঝা কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া বিদেশে ভ্রমণ ও বিদেশি শিক্ষার ক্ষেত্রে করের হার হ্রাসের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটন ও শিক্ষার চাহিদা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
বিপরীত দিকে, কিছু পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। কফি রোস্টিং, ব্রিউয়িং এবং ভেন্ডিং মেশিনের ওপর পূর্বে দেওয়া শুল্কমুক্তি তুলে নেওয়া হয়েছে, ফলে কফি শিল্পের খরচে বৃদ্ধি প্রত্যাশিত।
মদ্যপ পানীয় ও নির্দিষ্ট খনিজ পদার্থের উপর প্রয়োগিত গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST) এক শতাংশ থেকে দুই শতাংশে বাড়ানো হয়েছে। এই পরিবর্তন মদ্যপ পানীয়ের ভোক্তা মূল্যে প্রভাব ফেলবে।
সিগারেট ও গুটকার (তামাক) পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়লে ধূমপানের হার কমাতে সহায়তা করতে পারে, তবে একই সঙ্গে ভোক্তাদের ব্যয় বাড়বে।
শেয়ারবাজারের ফিউচার ও অপশন ট্রেডিংয়ে সিকিউরিটি ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) বাড়ানো হয়েছে। এই পদক্ষেপটি বাজারের লিকুইডিটি ও ট্রেডিং খরচে প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে সক্রিয় ট্রেডারদের জন্য।
আয়কর সংক্রান্ত নতুন বিধানও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আয়কর ভুলভাবে উপস্থাপন করলে এখন ১০০ শতাংশ জরিমানা, অর্থাৎ মূল করের সমান পরিমাণ জরিমানা আরোপিত হবে। এছাড়া অস্থাবর সম্পত্তির তথ্য গোপন করলে জরিমানা দিতে হবে।
বাজেটের এই পরিবর্তনগুলোকে একদিকে ক্যান্সার রোগীদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে কফি প্রেমিক, মদ্যপানকারী ও তামাক ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যয়বহুল হতে পারে।
মধ্যবিত্তের আয়কর স্ল্যাবের কোনো পরিবর্তন না হওয়ায়, তাদের আর্থিক স্বস্তি এখন মূলত বাজারে পণ্যের মূল্যের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, ক্যান্সার ওষুধের শুল্কমুক্তি স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে, একই সঙ্গে শুল্কবৃদ্ধি কিছু সেক্টরের মুনাফা হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
সামগ্রিকভাবে, এই বাজেটের লক্ষ্য হল স্বাস্থ্যসেবা ও মধ্যবিত্তের জীবনমান উন্নয়ন, তবে করবৃদ্ধি ও শুল্কহ্রাসের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য নীতি বাস্তবায়নে সতর্কতা প্রয়োজন।



