আমাজন সম্প্রতি প্রকাশিত ‘Melania’ শিরোনামের ডকুমেন্টারির প্রথম সপ্তাহান্তে ৭.০৪ মিলিয়ন ডলার আয় করে, যা সপ্তাহের মোট আয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেছে। চলচ্চিত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান থিয়েটারগুলোতে প্রদর্শিত হয় এবং প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে।
বিক্রয় রেকর্ডে ‘Melania’ এর পরবর্তী দুইটি শিরোনাম হল স্যাম রেইমি পরিচালিত থ্রিলার ‘Send Help’ (২০ মিলিয়ন ডলার) এবং মার্ক ফিশবাখের ভিডিও গেম ‘Iron Lung’ (১৭.৮ মিলিয়ন ডলার)। এই তিনটি শিরোনাম সপ্তাহের মোট বক্স অফিসে শীর্ষ তিনে স্থান পেয়েছে।
আমাজন এই ডকুমেন্টারিটি অধিগ্রহণের জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে এবং অতিরিক্ত ৩৫ মিলিয়ন ডলার প্রচারমূলক কাজে ব্যয় করেছে বলে জানা যায়। মোট ৭৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের পরেও চলচ্চিত্রটি প্রাথমিক অনুমানিত ৩ থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার আয়ের চেয়ে বেশি অর্জন করেছে।
উচ্চ ব্যয় সত্ত্বেও, থিয়েটারিক্সে লাভ অর্জনের সম্ভাবনা সীমিত বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। ব্যয়ের পরিমাণ আয়ের তুলনায় বেশি হওয়ায়, সিনেমা হলের মাধ্যমে সরাসরি মুনাফা অর্জন কঠিন হতে পারে।
এই ডকুমেন্টারির অধিগ্রহণে আমাজন, ডিজনি-কে ছাড়িয়ে ২৬ মিলিয়ন ডলার বেশি প্রস্তাব দিয়েছে। এই উচ্চ প্রস্তাবের পেছনে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক লাভ নয়, রাজনৈতিক প্রভাব অর্জনের ইচ্ছা থাকতে পারে বলে মন্তব্য উঠে এসেছে।
প্রাক্তন চলচ্চিত্র নির্বাহী টেড হোপ, যিনি ২০১৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত আমাজনে কাজ করেছেন, তিনি উল্লেখ করেছেন যে ‘Melania’ এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে ব্যয়বহুল ডকুমেন্টারি, যদিও এতে কোনো সঙ্গীত লাইসেন্সিং খরচ যুক্ত হয়নি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই ব্যয় কি রাজনৈতিক স্বার্থ অর্জনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
‘Melania’ এর পরিচালনা কাজটি ব্রেট রাটনারের হাতে, যিনি ২০১৭ সালের পর থেকে কোনো চলচ্চিত্র পরিচালনা করেননি। রাটনারের বিরুদ্ধে বহু নারী যৌন হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
রোলিং স্টোনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে নিউ ইয়র্কের ক্রু সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ অংশগ্রহণের সময় তাদের নাম ক্রেডিটে না রাখার অনুরোধ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি চলচ্চিত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
অ্যাপল সিইও টিম কুকও গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত প্রিভিউ স্ক্রিনিং-এ উপস্থিত ছিলেন। তবে সমালোচকদের জন্য কোনো অগ্রিম স্ক্রিনিং করা হয়নি, ফলে প্রথম সমালোচনাগুলি কঠোরভাবে নেতিবাচক হয়েছে।
সমালোচক সমীক্ষা অনুযায়ী, মেটাক্রিটিকের গড় স্কোর মাত্র ৭ শতাংশ, যা ‘অত্যন্ত অপ্রিয়’ হিসেবে চিহ্নিত। রোটেন টমেটোর স্কোরও ১০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দর্শকের বিরূপ প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের চলচ্চিত্র সমালোচক ম্যানোহলা ডারগিসের মন্তব্যে ‘Melania’ কে ‘মহিলার দৈনন্দিন জীবনের সীমিত ও সূক্ষ্মভাবে পরিচালিত চিত্রণ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা দর্শকের কাছে স্বচ্ছন্দ্যপূর্ণ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, ‘Melania’ ডকুমেন্টারিটি বাণিজ্যিক দিক থেকে প্রত্যাশিত আয় ছাড়িয়ে গেছে, তবে উচ্চ ব্যয় ও কঠোর সমালোচনার মুখে ভবিষ্যতে লাভজনকতা অর্জন কঠিন হতে পারে। চলচ্চিত্রের রাজনৈতিক প্রভাব এবং পরিচালকের পটভূমি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকবে।



