গাজীপুর শহরের ৩৫ নং ওয়ার্ডের দুলাল মার্কেট এলাকায় শনিবার সকাল প্রায় ১১টায় এক ব্যবসায়ী নারীর ওপর ছুরি চালিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের মতে, হিংসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধী রাণু বেগমকে আক্রমণ করে।
মৃত্যুবরণকারী রাণু বেগম, ৪০ বছর বয়সী, দুলাল মার্কেটের “রানি ফ্যাশন গ্যালারি” নামে পোশাকের দোকান চালাতেন। তার ব্যবসা স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল এবং তিনি বহু বছর এই এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
অপরাধে সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা পড়ে ২৭ বছর বয়সী আশিক ইসলাম স্বপন, যিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন ছাত্রদল (চ্যাট্রা দল) এর ৩৫ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন জেনারেল সেক্রেটারি। তার রাজনৈতিক সংযুক্তি এবং পূর্বের পদবী এই মামলায় অতিরিক্ত দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাণু বেগমের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে আশিকের সঙ্গে তর্ক হয়। তর্কের উত্তাপে আশিক ছুরি বের করে রাণুকে আঘাত করে এবং একই সময়ে রাণুর ২২ বছর বয়সী পুত্র হ্রিদয়কে রক্ষা করার চেষ্টা করলেও তাকে ছুরিকায় আঘাত করে।
হ্রিদয় রাণুকে রক্ষা করার সময় নিজেও আঘাত পেয়ে রক্তক্ষরণে ভুগে। দুজনেই তৎক্ষণাৎ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে রাণু বেগমের প্রাণ হারিয়ে যায়, আর হ্রিদয়কে স্থিতিশীল অবস্থায় ভর্তি করা হয়।
রাণুর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর হ্রিদয় একই রাতে তার মায়ের হত্যার জন্য অপরাধমূলক মামলা দায়ের করে। পুলিশ গাজীপুর গাচা থানা অফিসার ইন চার্জ মনিরুজ্জামান মামলার তদন্তে তৎপরতা প্রকাশ করেন এবং আরও দুইজন সন্দেহভাজন গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আশিক ইসলাম স্বপনকে গাজীপুরের ভলভা পুলিশ স্টেশন থেকে প্রস্থান করে ময়মনসিংহের ভালুকা থানা এলাকায় রাত প্রায় ২টায় গৃহযুদ্ধের সময় গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার সঙ্গে কোনো অস্ত্র বা অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি, তবে তিনি হিংসাত্মক কাজের জন্য দায়ী বলে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন চ্যাট্রা দল সভাপতি রোহানুজ্জামান শুকুর মিডিয়ার সামনে জানিয়ে বলেন, দল কোনো ধরনের হিংসা বা অপরাধকে সমর্থন করে না এবং আশিকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি চাওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, আশিক পূর্বে দলের কমিটিতে ছিলেন, তবে বর্তমানে তিনি কোনো কার্যক্রমে যুক্ত নন।
অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আদালত দ্রুত মামলাটি শোনার নির্দেশ দেয়। হ্রিদয় দায়ের করা হত্যাকাণ্ডের মামলা আগামী সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুর জেলায় দায়ের হবে বলে জানানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আশিকের বিরুদ্ধে হিংসা, হত্যাকাণ্ড এবং অস্ত্র ব্যবহার সংক্রান্ত আইনের অধীনে অভিযোগ দায়ের করা হবে।
প্রসিকিউশন দল গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজনের জড়িত থাকা অন্যান্য সহকর্মী ও সহায়কদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে। তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে অতিরিক্ত গ্রেফতার বা আদালতে অতিরিক্ত দায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনা গাজীপুরের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া ফেলেছে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে। কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এবং চলমান তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে অনুরূপ হিংসা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



