18 C
Dhaka
Monday, February 2, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাবাংলা একাডেমীতে ১ ফেব্রুয়ারি প্রতীকী বইমেলা, সভাপতি আক্ষেপ প্রকাশ

বাংলা একাডেমীতে ১ ফেব্রুয়ারি প্রতীকী বইমেলা, সভাপতি আক্ষেপ প্রকাশ

১ ফেব্রুয়ারি রবিবার বাংলা একাডেমীর নজরুল মঞ্চে একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে একটি প্রতীকী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক উপস্থিত থেকে বইমেলা না হওয়ার কারণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাস্তবিক বাধা সত্ত্বেও ফেব্রুয়ারির শুরুর ঐতিহ্য বজায় না রাখতে পারা সংস্কৃতি ও বৌদ্ধিক অগ্রগতির জন্য ক্ষতিকর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ফজলুল হক এবং ১৯৬০-এর দশকের গণ-অভ্যুত্থানের নেত্রী দীপা দত্ত মেলাটি উদ্বোধন করেন। ফজলুল হক বলেন, আজকের বইমেলা কেবল কবিতা ও উপন্যাসের সীমা অতিক্রম করে দর্শন, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও রাজনীতির মতো ক্ষেত্রের বিশাল গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে জাতীয় জাগরণে অবদান রাখে। তবে প্রথা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে মেলা না হওয়া দুঃখজনক।

দীপা দত্ত ১৯৬৪ সালে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে শুরু হওয়া মেলার ঐতিহ্য বজায় রাখতে এই প্রতীকী আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে উদীচি ও ছায়ানটের ওপর আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এমন আক্রমণগুলো বাঙালি সংস্কৃতিকে ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর কাজ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলা সম্প্রসারণের পর থেকে এসব হামলার সংখ্যা বাড়ছে।

মেলাটির সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ উল্লেখ করেন, দেশের সব কিছু সুষ্ঠু চললেও বইমেলা না চলা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ভাষা মাসের শুরুর দিকে মেলা না হওয়া বাংলা একাডেমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি কলঙ্কের মতো। এই প্রতিবাদী উদ্যোগের মাধ্যমে জাতির প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছে এবং যেখানে সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ হয়, সেখানে তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান লালটুরের সভাপতিত্বে প্রকাশক সাঈদ বারী স্বাগত বক্তব্য রাখেন। দেলোয়ার হাসান, সৈয়দ জাকির হোসাইন এবং উদীচির সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপনসহ অন্যান্য ব্যক্তিরাও সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন।

প্রতীকী মেলায় অনন্য প্রকাশনা সংস্থা যেমন অন্যপ্রকাশ, কাকলী, অ্যাডর্ন, পাঠক সমাবেশ ও জাগৃতি ইত্যাদি স্টল স্থাপন করে গ্রন্থপ্রেমীদের সেবা প্রদান করে। দিনভর গানের, কবিতার ও নাটকের মাধ্যমে উদীচি, বিবর্তন ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো প্রতিবাদমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে, যা মেলাটিকে শুধুমাত্র বইয়ের প্রদর্শনী নয়, সংস্কৃতি রক্ষার একটি মঞ্চে পরিণত করে।

এই অনুষ্ঠানটি বইমেলার ঐতিহ্য বজায় রাখার পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখে বাঙালি সংস্কৃতির সংরক্ষণে একসাথে দাঁড়ানোর সংকেত দেয়। ভবিষ্যতে সময়সূচি সুনির্দিষ্ট করে, বইমেলা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হলে বাংলা একাডেমি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সুনাম আরও দৃঢ় হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments