বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল আইসিসি (আইসিসি) নারী টি২০ বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্টে কোনো পরাজয় না পেয়ে ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। কোয়ালিফায়ার শেষের দিকে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলটি দেশের গর্ব বাড়াতে চায়।
চূড়ান্ত ম্যাচে, ঢাকা শহরের উপরের মুলপানী গ্রাউন্ডে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে দলটি সাত উইকেটের পার্থক্যে জয়লাভ করে। এই জয়টি ছিল তাদের সপ্তম জয়, ফলে তারা সাতটি ম্যাচে সাতটি জয় নিশ্চিত করে টুর্নামেন্টের শীর্ষে উঠে।
সারাবিশ্বে এই পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করা হয়েছে, কারণ দলটি ব্যাটিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ব্যাটসম্যানরা ধারাবাহিক রান তৈরি করেছে, আর বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে দমন করেছে, ফলে পুরো দলটি সমন্বিতভাবে আধিপত্য বজায় রাখতে পেরেছে।
ক্যাপ্টেন নিগার সুলতানা জোর দিয়ে বলেছেন, ইংল্যান্ডে শুধু অংশগ্রহণের জন্য নয়, ম্যাচ জিততে এবং দেশের জন্য প্রভাবশালী টি২০ বিশ্বকাপ উপহার দিতে তারা প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা সেখানে শুধু অংশ নিতে চাই না, জয় অর্জন করে দেশের গর্ব বাড়াতে চাই।”
ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনা থাকলেও, এই টুর্নামেন্টে তারা পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেছে। নিগার বলেন, “বাটারদের ধারাবাহিকতা নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়, তবে এই টুর্নামেন্টে তারা সত্যিই শাসন করেছে। বোলারদের সমর্থনও ছিল শক্তিশালী, ফলে আমরা পুরো দল হিসেবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে পেরেছি।”
দলটি কোয়ালিফায়ার শুরুর আগে মূল লক্ষ্য ছিল যোগ্যতা নিশ্চিত করা, তবে মনোভাবের পেছনে টুর্নামেন্ট জয় এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী থাকা ছিল। নিগার আলহামদুলিল্লাহ্ বলে জানান, “আমাদের পরিকল্পনা ছিল প্রথমে যোগ্যতা নিশ্চিত করা, তবে আমরা টুর্নামেন্ট জয় এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী থাকতে চেয়েছিলাম, তা আমরা অর্জন করেছি।”
দলীয় সাফল্যের জন্য তিনি পুরো দলের প্রশংসা করেন, “সব ক্রেডিট মেয়েদেরই, যারা পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। প্রত্যেকেই নিজের ভূমিকা পালন করেছে, তাই আমরা এই রকম ফলাফল পেয়েছি।”
আগামী টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য আন্তর্জাতিক ম্যাচের গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন। ২০২৫ সালের ভারতীয় ওডিআই বিশ্বকাপে মাত্র এক জয় অর্জনের পর, দলটি এখন টি২০ ফরম্যাটে আরও ভালো পারফরম্যান্সের লক্ষ্যে প্রস্তুতি বাড়াতে চায়। নিগার বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল টি২০ বিশ্বকাপে আরও ভাল পারফরম্যান্স করা। প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই বিশ্বকাপের আগে কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে চাই, যাতে পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারি।”
বাংলাদেশের নারী দল এখন জুন মাসে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত, এবং কোয়ালিফায়ার জয়ের পর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সন্ধান করছে। তাদের পরবর্তী শিডিউলে কিছু বন্ধুত্বপূর্ণ সিরিজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা টুর্নামেন্টের আগে দলকে শাণিত করবে।
এই সাফল্য দেশীয় ক্রীড়া জগতে নতুন উদ্যমের সঞ্চার করেছে এবং নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দলটি এখন বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে এবং টি২০ বিশ্বকাপে দেশের গর্ব বাড়াতে প্রস্তুত।



