23 C
Dhaka
Sunday, May 3, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবিমান বাংলাদেশ ১৪টি বয়িং জেট ক্রয়ের নীতি অনুমোদন

বিমান বাংলাদেশ ১৪টি বয়িং জেট ক্রয়ের নীতি অনুমোদন

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বার্ষিক সাধারণ সভায় মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, জাতীয় ক্যারিয়ারটি বয়িং থেকে মোট ১৪টি নতুন জেট ক্রয় করবে। এই পদক্ষেপটি বহরকে আধুনিকায়ন এবং বহরের আকার বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

সভা পরিচালনা করেন স্কি বশির উদ্দিন, যিনি বিমান বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং এয়ারলাইনসের এভিয়েশন ও ট্যুরিজম উপদেষ্টা। সভায় উপস্থিত বোর্ড সদস্যরা একমত হয়ে এই নীতি অনুমোদন করেন।

বয়িংয়ের প্রস্তাব গ্রহণের ফলে এয়ারলাইনসের পূর্বের এয়ারবাসের প্রস্তাব বাদ পড়ে। বোর্ডের মূল অনুমোদনটি মূলত মূল্য আলোচনা এবং টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

নির্ধারিত জেটগুলোর মধ্যে রয়েছে আটটি বয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুইটি বয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। এই মডেলগুলো আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রুটে উচ্চ ক্ষমতা ও জ্বালানি দক্ষতা প্রদান করবে।

ইন্টারিম সরকার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বয়িং থেকে ২৫টি জেট ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অতঃপর অতিরিক্ত মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার পর বিমান বাংলাদেশ এই নীতি চূড়ান্ত করে।

বোর্ডের বিবৃতি অনুযায়ী, এই ক্রয়টি দেশের এয়ার ট্রাফিক ক্ষমতা বাড়াতে, আন্তর্জাতিক সংযোগ শক্তিশালী করতে এবং ভবিষ্যৎ যাত্রী ও কার্গো চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। নতুন জেটগুলো চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক ও সরকারি উভয় সেক্টরে কার্যক্রমের বিস্তার সম্ভব হবে।

প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে এবং ধাপে ধাপে ডেলিভারি শুরু হবে। ডেলিভারির সময়সূচি ও শর্তাবলী টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

এয়ারবাস পূর্বে বিমানকে তার জেট সরবরাহের জন্য উৎসাহিত করছিল, যুক্তি দিয়ে যে বহরে এয়ারবাসের মডেল যুক্ত করলে বহুমুখিতা, স্থিতিশীলতা এবং প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়বে। তবে শেষ পর্যন্ত বয়িংয়ের প্রস্তাবই গ্রহণ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিরা, বিশেষত ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, গত নভেম্বরের একটি বিরল প্রেস কনফারেন্সে ইউরোপের সমর্থন প্রকাশ করে ছিলেন। তারা উল্লেখ করেন যে, এয়ারবাসের মাধ্যমে ইউরোপীয় প্রযুক্তি ও সেবা বাংলাদেশে প্রবেশের ইচ্ছা রয়েছে।

বয়িংয়ের সঙ্গে এই চুক্তি দেশের বিমান শিল্পে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ সেক্টরের জন্য নতুন সুযোগ এনে দেবে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতা বাড়ার ফলে টিকিটের দাম ও সেবার মানে পরিবর্তন আসতে পারে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বয়িং জেটের ক্রয় একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এই জেটগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন এবং প্রযুক্তি ভিত্তিক, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে সমর্থন করবে। তবে মূল্য আলোচনার সময় আর্থিক শর্তাবলীর ওপর সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

ভবিষ্যতে বিমান বাংলাদেশ এই নতুন বহরকে ধীরে ধীরে চালু করে আন্তর্জাতিক রুটের সংখ্যা বাড়াতে পারে এবং দেশীয় পর্যটন ও রপ্তানি শিল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে আয় বৃদ্ধি করতে পারে। তবে জেটের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, প্রশিক্ষণ ব্যয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments