বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামী ব্যাংক, সমিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, আজ থেকে পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের গ্রাহকদের জমা ফেরত দিতে শুরু করেছে। একত্রিত ব্যাংকগুলো হল এক্সইম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।
বিকাশের প্রথম দিনে শাখাগুলোতে কোনো বিশাল ভিড় দেখা যায়নি; বেশিরভাগ শাখা স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এটি গ্রাহকদের নতুন সংস্থার ওপর আস্থা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
একত্রিত শাখাগুলোর প্রবেশদ্বারে “সমিলিত ইসলামী ব্যাংক” লোগোযুক্ত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, পাশাপাশি পুরনো শাখার নামের সাইনবোর্ডও বজায় রাখা হয়েছে। এতে গ্রাহকদের জন্য পরিচিতি বজায় থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশমতো, সঞ্চয় ও চলতি অ্যাকাউন্টধারীরা সর্বোচ্চ দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন। ঢাকা শহরের মতি হিলের বিভিন্ন শাখা পরিদর্শনে কোনো অস্বাভাবিক ভিড় দেখা যায়নি; গ্রাহকরা স্বাভাবিক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছেন।
মতি হিলের সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখায় মাত্র পাঁচ থেকে ছয়জন গ্রাহকই লেনদেন করছেন। শাখা ব্যবস্থাপক জানান, গ্রাহকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা উত্তোলন করতে পারেন, তবে বেশিরভাগই তা না করেই শাখা পরিদর্শন করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শাখার মোট জমা প্রায় তিনশো কোটি টাকা, যার বেশিরভাগই ব্যক্তিগত গ্রাহকের।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক, যিনি একইসাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরও, জানান, কিছু গ্রাহক উত্তোলনের আবেদন করেছেন, তবে নির্দিষ্ট যোগ্যতা মানদণ্ডের কারণে প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ ব্যাংকিং কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো চাপের লক্ষণ দেখা যায়নি।
এই নির্দেশনা ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক জারি করে, যার মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রত্যেকটি সঞ্চয় ও চলতি অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ দুই লক্ষ টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই নীতি একত্রিত ব্যাংকগুলোকে আর্থিক সিস্টেমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত জমা ফেরত প্রক্রিয়া দেশের আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ব্যাংকগুলোকে এখনো সম্পূর্ণভাবে একীভূত করতে সময় লাগবে, তবে বর্তমান পর্যায়ে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতে, যদি শাখা-শাখা ভিত্তিক পরিষেবা এবং গ্রাহক সেবা মান উন্নত করা যায়, তবে এই একীভূত ইসলামী ব্যাংক দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এবং ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টরের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



