জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের পূর্বে জাকসু (কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ) কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি ৩০ ডিসেম্বর বিকেলে পোস্টে উল্লেখ করেন যে, জুলাই মাসে ক্যাম্পাসে সংঘটিত হামলার পর থেকে বহিষ্কৃত শিক্ষকরা গোপনভাবে মিলিত হতে চাইছেন।
চিশতী পোস্টে বলেন, যদি কোনো বহিষ্কৃত শিক্ষক ১ জানুয়ারি থেকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কোনো গোপন সভা করার চেষ্টা করেন, তবে তাকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সামনে শারীরিকভাবে বাঁধা হবে। এই ব্যবস্থা তার দৃষ্টিতে ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা রক্ষার এক চূড়ান্ত সতর্কতা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষক সমিতির আসন্ন নির্বাচনে (১৫ জানুয়ারি নির্ধারিত) যদি কোনো প্রো-আওয়ার্মি লীগ শিক্ষক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস দেখান, তবে তাদেরকে সম্মানজনক বিদায়ের প্রস্তুতি নিতে বলা হবে। এভাবে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বহিষ্কৃত শিক্ষকদের অংশগ্রহণকে বাধা দিতে চেয়েছেন।
চিশতী জানান, সম্প্রতি তিনি শুনেছেন যে কিছু শিক্ষক ক্যাম্পাসে গোপনভাবে মিলিত হয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেন। তার মতে, যদি ভবিষ্যতে কোনো বহিষ্কৃত শিক্ষক ক্যাম্পাসে এসে ক্লাস, মিটিং বা অন্য কোনো কার্যক্রম চালু করার চেষ্টা করেন, তবে তাকে শারীরিকভাবে বাঁধা হবে এবং তা চূড়ান্ত সতর্কতা হিসেবে গণ্য হবে।
শিক্ষক সমিতি নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে অনেক প্রো-আওয়ার্মি লীগ শিক্ষক রয়েছেন, যাদের বহিষ্কৃত করা সম্ভব হয়নি। তবে যদি তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চায়, তবে তাদেরকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না। এভাবে তিনি শিক্ষকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে সীমাবদ্ধ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
জাকসু সহসভাপতি আব্দুর রশিদ জিতু এই হুঁশিয়ারিকে সংগঠনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয় বলে স্পষ্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই মন্তব্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে করা হয়েছে এবং জাকসু সমগ্রভাবে এ বিষয়ে কোনো নীতি গ্রহণ করেনি।
জিতু আরও জানিয়েছেন, যারা জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান, তাদের ক্ষেত্রে এই সতর্কতা বিশেষভাবে প্রযোজ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আদালতে চলমান মামলায় প্রভাব না ফেলতে এই ধরনের ব্যক্তিগত মন্তব্য করা হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাবি ক্যাম্পাসের শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দাবি এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন উভয়ই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখনো স্পষ্ট নির্দেশনা চায়, যাতে তারা কোনো অনিচ্ছাকৃত লঙ্ঘন না করে।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: ক্যাম্পাসে কোনো সভা বা কার্যক্রমের আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নোটিশ যাচাই করুন, এবং সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ব্যক্তিগত মন্তব্যের ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এভাবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ই অনাবশ্যক সমস্যার মুখোমুখি না হয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পারবেন।



