জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) আজ থেকে ব্যবহার অনুমতি (Utilisation Permission) ইস্যুর পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করেছে। নতুন ব্যবস্থা তিনটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন ও অনুমোদন সম্পন্ন করে, ফলে পুরনো কাগজপত্রভিত্তিক পদ্ধতি শেষ হয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল রপ্তানি‑মুখী শিল্পের জন্য সেবা দ্রুততর, স্বচ্ছ এবং কম ব্যয়বহুল করা।
ব্যবহার অনুমতি হল এমন একটি অনুমোদন, যার মাধ্যমে রপ্তানি‑উদ্দেশ্য ব্যবসা গুলো শুল্ক না দিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে পারে এবং তা রপ্তানি পণ্যের উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারে। পূর্বে এই অনুমতির জন্য শারীরিকভাবে কাস্টমস অফিসে গিয়ে ফর্ম জমা দিতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ এবং প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি করত।
নতুন সিস্টেমে কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CBMS) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে চালু। এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে রপ্তানি‑মুখী প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে আবেদন জমা দিতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট বন্ড কমিশনারেটের অনুমোদন পেতে পারে। ফলে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল হয়ে গেছে।
অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীকে কাগজের ফর্ম পূরণ, স্বাক্ষর ও শারীরিক জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সব ধাপ—আবেদন, যাচাই, অনুমোদন—ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা সময়ের সাশ্রয় করে এবং ব্যবহারকারীর জন্য বড় সুবিধা নিয়ে আসে। এই পরিবর্তন বিশেষত বন্ডেড গুদাম ব্যবহারকারী সংস্থাগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি প্রদান করে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়ায় মানবিক হস্তক্ষেপের সুযোগ কমে যায়, ফলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে পক্ষপাতের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। স্বয়ংক্রিয় যাচাই প্রক্রিয়া ডেটা ভিত্তিক হওয়ায় অনুমোদনের গতি ত্বরান্বিত হয় এবং ত্রুটির হার কমে।
অটোমেশন ব্যবস্থা খরচ কমাতে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ করতে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কাগজপত্রের ব্যবহার হ্রাস পাবে, ফলে প্রিন্টিং ও সংরক্ষণে ব্যয় কমবে। এছাড়া অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে রিয়েল‑টাইম ডেটা সংগ্রহ সম্ভব, যা নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে।
ডেটা ব্যবস্থাপনা, পর্যবেক্ষণ এবং অডিটের ক্ষেত্রে নতুন সফটওয়্যার উন্নত টুল সরবরাহ করে। সমস্ত আবেদন ও অনুমোদনের রেকর্ড ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হবে, যা পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের জন্য সহজলভ্য হবে। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়বে।
অধিকন্তু, স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া বন্ড সংক্রান্ত বিরোধ ও আইনি মামলার সংখ্যা কমাতে সহায়তা করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। স্পষ্ট ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কমে যাবে এবং সমাধান দ্রুত হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই উদ্যোগ রপ্তানি‑মুখী শিল্পের জন্য কাঁচামাল আমদানি প্রক্রিয়াকে সহজতর করে, উৎপাদন খরচ কমায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায়। ভবিষ্যতে আরও ডিজিটাল সেবা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাণিজ্যিক পরিবেশকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলবে।



