নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়নের পশ্চিম দেওভোগের নাগবাড়ি এলাকায় বুধবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে এক যুবকের ওপর গোষ্ঠী আক্রমণ ঘটে, যার ফলে তিনি কুপি‑পিটি করে নিহত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফতুল্লা মডেল থানা ওসি আব্দুল মান্নান জানান, মৃতের নাম রায়হান খান, বয়স ২৫ বছর, তিনি চাঁদপুরের বহারিয়া বাজারের প্রয়াত বিল্লাল খানের পুত্র।
রায়হান পশ্চিম দেওভোগের তাঁতীপাড়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। ওসি উল্লেখ করেন, রায়হানের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চুরি এবং তিনটি পৃথক হত্যাকাণ্ডসহ বেশ কয়েকটি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি প্রায়ই স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা‑পয়সা চাঁদা নিতেন এবং মাদক ব্যবসায় বাধা দিলে শিকার হতেন।
সকালবেলায় রায়হান একটি গ্যারেজের মালিকের কাছ থেকে টাকা দাবী নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই তর্কের পরই গোষ্ঠীটি তাকে ঘিরে শারীরিক আক্রমণ চালায়, পিটিয়ে কুপি‑পিটি করে হত্যা করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মোড়ে লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় ময়নাতদন্তের জন্য।
ময়নাতদন্তে রায়হানের মুখমণ্ডল থেতলানো এবং শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ওসি বলেন, মৃতের দেহে কেবল শারীরিক আঘাতই নয়, মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। কিছু প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, রায়হানের মাদক ব্যবসা নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনও আক্রমণে অংশ নেয়েছিল।
অভিযুক্তদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে পুলিশ তদন্তের আওতায় রয়েছে। ওসি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো পুরোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কাজ করেছে কিনা তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। বর্তমানে ফতুল্লা মডেল থানায় রায়হানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রেজিস্টার করা হয়েছে, যার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য একটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় মানুষ এই ঘটনার প্রতি শোক প্রকাশ করেছে এবং রায়হানের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরোধী দিকেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পুলিশ বলেছে, তদন্ত চলাকালে প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
এই মামলায় আদালতে কী রকম রায় দেওয়া হবে, তা এখনো অজানা। তবে ফতুল্লা মডেল থানা ওসি নিশ্চিত করেছেন, তদন্তের সব দিকই যথাযথভাবে অনুসন্ধান করা হবে এবং আইনের শাসন বজায় রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



