রংপুরের গংগাচড়া এলাকায় রংপুর‑১ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলীর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার ভিত্তিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ জারি করেছেন। এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে, দাখিল করা নয়টি মনোনয়নপত্রের যাচাই‑বাছাই শেষে নেওয়া হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা রংপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টার পরে দাখিল করা মনোনয়নপত্রগুলো পর্যালোচনা করে, নাগরিকত্বের প্রশ্নে মঞ্জুম আলীর পত্র বাতিলের নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আজ রংপুর‑১ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই‑বাছাইয়ের দিন ছিল এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলীর পত্র বাতিল করা হয়েছে।”
মঞ্জুম আলী এই আদেশের পর তৎক্ষণাৎ তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “অনেককে এখানে ঠিক করার সুযোগ করে দেওয়া হলেও আমাকে এখানে কোনো সুযোগ দেওয়া হয় নাই। আমার কোনো দ্বৈত নাগরিকত্বও নেই। আমি আপিলে যাবো।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমার বিশ্বাস আপিল থেকে আমার এটা চলে আসবে। এটা একটা নরমাল জিনিস ওরা ইচ্ছা করলে এখান থেকে আমাকে দিতে পারতো।” ভোটারদের আশ্বাস দিতে তিনি বলেন, “আপনারা হতাশ হবেন না। আমরা হাইকোর্টে যাব, সেখান থেকে রায় নিয়ে আসবো।”
রংপুর‑১ আসনে মঞ্জুম আলীর ছাড়া বাকি আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে বিএনপি প্রার্থী মোকারম হোসেন সুজন, জামায়াতের রায়হান সিরাজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু, গণঅধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান সজিব, বাসদ (মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন তিতু, জাতীয় নাগরিক পার্টির আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মমিনুর রহমান এবং ইসলামীক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ আনাস। এই প্রার্থীরা সকলেই তাদের সংশ্লিষ্ট পার্টির অনুমোদন পেয়ে নির্বাচনী কমিশনের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এখন মনোনয়নপত্রের বৈধতা পুনরায় যাচাই করছে এবং প্রয়োজন হলে সংশোধনী পদক্ষেপ নেবে। নাগরিকত্বের প্রশ্নে মঞ্জুম আলীর পত্র বাতিল হওয়ায় তিনি হাইকোর্টে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন; আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করে তিনি পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনার ফলে রংপুর‑১ আসনের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ে। অন্যান্য প্রার্থীরা এখনো তাদের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভোটারদের কাছে সমর্থন জোগাড়ের জন্য বিভিন্ন সভা, র্যালি ও দরবারী সফর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে গংগাচড়া অঞ্চলের গ্রামীন ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে তারা নিজেদের নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরতে চাচ্ছেন।
নির্বাচনী কমিশন সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ শেষ তারিখের আগে সম্পন্ন করবে এবং ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করবে। রংপুর‑১ আসনের ভোটদান ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠিত হবে, এবং এই ভোটের ফলাফল দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মঞ্জুম আলীর আপিল প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তিনি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভবিষ্যতে আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই পদক্ষেপের ফলে রংপুরের নির্বাচনী ল্যান্ডস্কেপে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হতে পারে, এবং অন্যান্য প্রার্থীরাও এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের কৌশল সামঞ্জস্য করতে পারে।
সংক্ষেপে, রংপুর‑১ আসনের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতা মঞ্জুম আলীর মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হয়েছে, অন্য আটজন প্রার্থীর পত্র বৈধ রয়ে গেছে, এবং আপিলের পরিণতি নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।



