গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের অফিসে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করার সময় দলীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের জনগণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণে দলটি সক্ষম হবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই উদ্বেগের মূল কারণ হল বিএনপির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও জনসাধারণের বিশ্বাসের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব।
সালাহউদ্দিনের মন্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যু। তিনি বলেন, জিয়া শারীরিকভাবে আর আমাদের মাঝে নেই, তবে তার আদর্শ ও স্মৃতি জনগণের হৃদয়ে এখনও বেঁচে আছে। তাকে “গণতন্ত্রের মা” উপাধি দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে এবং এই উপাধি তার রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
খালেদা জিয়ার শেষ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ঢাকার বিভিন্ন অংশ থেকে বিশাল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়।现场 উপস্থিতির সঠিক সংখ্যা রেকর্ড করা হয়নি, তবে এটি বিশ্বের বৃহত্তম অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যারা সরাসরি উপস্থিত হতে পারেনি, তারা দূর থেকে গয়েবানা মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেছে, যা সমগ্র জাতির শোকের প্রকাশ ঘটিয়েছে।
সালাহউদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, জিয়া একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গণতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে উদাহরণ স্থাপন করেছেন। তিনি নিজের জীবন, সন্তান ও পারিবারিক স্বার্থ ত্যাগ করে দেশের স্বাধিনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় লড়াই করেছেন। এই ত্যাগের গল্পটি দেশের বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি জিয়ার দেশপ্রেম ও ভক্তির মাত্রা তুলনা করা কঠিন বলে উল্লেখ করেন। যদিও তিনি সম্পদ ও স্বাচ্ছন্দ্য হারিয়েছেন, তবু তিনি এমন একটি মর্যাদা অর্জন করেছেন যা বিশ্বের বেশিরভাগ নেতার তুলনায় আলাদা। তার আদর্শ ও ত্যাগের স্মৃতি এখনো দেশের বিভিন্ন স্তরে সম্মানিত হয়।
সালাহউদ্দিনের মতে, জিয়ার আদর্শকে সংরক্ষণ করা এবং তার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা বাংলাদেশের শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য অপরিহার্য। তিনি এটিকে জাতির মৌলিক দাবি হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং জোর দেন যে এই দায়িত্ব শুধুমাত্র এক দলের নয়, পুরো দেশের।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জিয়া শুধুমাত্র বিএনপির নেতা নন, তিনি গণতন্ত্রের অনুসারী সকলের নেতা হিসেবে স্বীকৃত। দেশের সব স্তরের মানুষ তাকে সেই মর্যাদায় সম্মান করে, যা তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের স্বীকৃতি। তার অনুপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।
তবে, বর্তমান সময়ে জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে, এবং এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপান্তর করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ফাঁক কমাতে দলকে সংহত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সীমিত আর্থিক ও সম্পদজনিত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, সালাহউদ্দিন দলকে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা ছাড়া জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন হবে।
অবশেষে, তিনি উল্লেখ করেন যে, জিয়ার আদর্শকে জীবিত রাখতে এবং দেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দলকে তার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। এই প্রচেষ্টা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জনগণের বিশ্বাস পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।



