শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিকেই ফেনী জেলায় শিক্ষার্থীদের নতুন পাঠ্যবই বিতরণে অসমতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক স্তরে সব বিদ্যালয়ে বই পৌঁছলেও, মাধ্যমিক ও দাখিল স্তরে চাহিদার অর্ধেকের কম শিক্ষার্থীই নতুন বই পেতে পারছে। এই পরিস্থিতি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মতে সরবরাহের অগ্রগতি ধীর হওয়ায় সৃষ্টি।
প্রাথমিক শিক্ষার জন্য মোট ৫,৬২,৯২৮টি বই বরাদ্দ করা হয়েছিল এবং তা ৫৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্পূর্ণভাবে বিতরণ করা হয়েছে। সদর উপজেলা, দাগনভূঞা, সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম ও ফুলগাজী সহ সব উপজেলা থেকে নির্ধারিত সংখ্যক বই যথাযথভাবে পৌঁছেছে।
সদর উপজেলায় ২,৯,৬২২টি, দাগনভূঞায় ৯১,৬৭০টি, সোনাগাজীতে ১,৯,৪০০টি, ছাগলনাইয়ায় ৫৯,৬৪৪টি, পরশুরামে ৪২,৫৮২টি এবং ফুলগাজীতে ৫০,১০টি বই সরবরাহ করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, সব বিদ্যালয়ে বই পৌঁছেছে এবং শিক্ষার্থীরা প্রথম দিনেই নতুন বই হাতে পাবে।
মাধ্যমিক স্তরে মোট ১,৬৪,১৮৫ জন শিক্ষার্থী এবং মাদ্রাসা স্তরে ১,৫৪,০৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দাখিল স্তরে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য মোট ৭,৭৬,৮৯০টি বই চাহিদা ছিল, তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১,২৭,৬৮০টি বইই সরবরাহ করা হয়েছে, যার সরবরাহ হার ১৬.৪ শতাংশ।
মাধ্যমিক (সরকারি ও বেসরকারি) স্তরে একই শ্রেণির জন্য মোট ১৩,৫৩,৫৫৫টি বই চাহিদা ছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেবল ৩,৮৪,৭৬০টি বইই পৌঁছেছে, যার সরবরাহ হার ২৮.৩৫ শতাংশ। ফলে অধিকাংশ মাধ্যমিক ও দাখিল শিক্ষার্থী এখনও পুরনো বই ব্যবহার করছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত মোট প্রায় ৬০ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন বই পৌঁছাচ্ছে। তবে শিক্ষাবর্ষের শুরুর দিনে সব মাধ্যমিক ও দাখিল শিক্ষার্থীকে নতুন বই প্রদান করা সম্ভব হবে না। পূর্ণ সরবরাহের সময়সূচি সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
বই বিতরণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক বই উৎসবের আয়োজন না করলেও, বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের সুবিধাজনকভাবে বই সংগ্রহের ব্যবস্থা করবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিদ্যালয় থেকে বই নিতে পারবে, ফলে কিছুটা স্বচ্ছন্দতা বজায় থাকবে।
২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম চালু করা হয়েছিল, তবে এক বছরের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে পূর্বের কারিকুলামে ফিরে যাওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, কারণ পাঠ্যবই ও শিক্ষাসামগ্রী পুনরায় সমন্বয় করতে হয়েছে।
বই সরবরাহের ঘাটতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার গতি ধীর করে দিতে পারে, বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক ও দাখিল স্তরে প্রবেশ করছে। নতুন পাঠ্যবই না পেলে পুরনো বইয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ হল, বিদ্যালয়ের বই সংগ্রহের সময়সূচি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা এবং সম্ভব হলে বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বই পাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর করা। এছাড়া, যদি বই না পৌঁছায়, তবে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা গ্রন্থাগার থেকে অতিরিক্ত কপি সংগ্রহের চেষ্টা করা যেতে পারে।
শিক্ষাবর্ষের শেষ দিকে যদি সম্পূর্ণ বই সরবরাহ না হয়, তবে শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প শিক্ষাসামগ্রী ও অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাব্যবস্থার এই অস্থায়ী সমস্যার সমাধানে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।



