33 C
Dhaka
Friday, May 8, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকেনার এলিয়াস জোন্সের কোরবয় থেকে বিশ্বব্যাপী প্রতারণাকারী হওয়ার পথ

কেনার এলিয়াস জোন্সের কোরবয় থেকে বিশ্বব্যাপী প্রতারণাকারী হওয়ার পথ

কেনার এলিয়াস জোন্স, ১৯ বছর বয়সে কোরবয় হিসেবে সঙ্গীত জগতের নজরে আসেন। ১৯৬৯ সালে ওয়েলসের ক্যার্নারফনে প্রিন্স চার্লসের ইনভেস্টিচার অনুষ্ঠানে তিনি ক্রস বহন করে বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ দর্শকের সামনে উপস্থিত হন। সেই সময় তার কণ্ঠকে “দেবদূতের সুর” বলে প্রশংসা করা হয়।

কোরবয় হিসেবে তার পারফরম্যান্সের প্রশংসা তাকে জনসমক্ষে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল, যা পরবর্তীতে তার প্রতারণামূলক ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রে জোন্সের জীবনের উত্থান-পতন তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের এক আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা “সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতারণাকারী” বলে বর্ণনা করেছেন।

চলচ্চিত্রের শিরোনাম “কন জোন্স: ওয়ার্ল্ডস বেস্ট কনম্যান”। এতে প্রকাশিত হয়েছে যে, কোরবয় হিসেবে ক্রস বহনের কাজটি আসলে তার প্রথম প্রতারণা ছিল। অন্য কোরবয় কেভিন ডাউটি উল্লেখ করেন যে, জোন্স বিশপের কাছে গিয়ে অন্যদের সম্মতি না নিয়ে নিজেকে নির্বাচিত করে নিয়েছিলেন।

ডকুমেন্টারির পরিচালক মার্ক এডওয়ার্ডস, যিনি জোন্সের অপরাধের ইতিহাস তিন দশক ধরে অনুসরণ করছেন, বলেন যে এ ধরনের গল্প বাস্তব জগতে আগে কখনো দেখেননি। তার মতে, জোন্সের চমৎকার চেহারা ও আকর্ষণীয় স্বভাব তাকে সহজে বিভিন্ন সমাজে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।

১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে জোন্স শেফিল্ড পলিটেকনিকের ছাত্র হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। একই সময়ে তাকে “জনপ্রিয়, রঙিন, উদার ও সহায়ক” হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তার সামাজিক নেটওয়ার্কে দ্রুত স্বীকৃতি পেয়ে তিনি বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সহজে প্রবেশ করতে পারতেন।

তবে তার প্রতারণার প্রবণতা শীঘ্রই প্রকাশ পায়। ১৯৭৩ সালে শেফিল্ডে প্রথমবারের মতো তিনি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তিন বছরের শাস্তি স্থগিত করা হয় এবং তাকে নর্থ ওয়েলসের ডেনবিগ মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

দুই বছর পর, ১৯৭৫ সালে লন্ডনের ওল্ড বেইলিতে আরেকটি আর্থিক প্রতারণা মামলায় তাকে ১২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই সময়ের পরেও তিনি মানসিক চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে ছিলেন, যা তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও জটিল করে তুলেছিল।

১৯৭৯ সালে উত্তর ওয়েলসে একটি পর্যটন স্টলে কাজ করা ক্যানেডিয়ান লি ম্যাককেনজি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি জোন্সকে আকর্ষণীয়, বুদ্ধিমান ও আত্মবিশ্বাসী বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন যে তার সংস্কৃতি তাকে মুগ্ধ করেছিল। এই সাক্ষাৎ জোন্সের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতারণা চালানোর দরজা খুলে দেয়।

পর্যটন স্টলে তার পরিচিতি তাকে যুক্তরাজ্য থেকে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো তিনটি মহাদেশে তার জাল বুনতে সহায়তা করে। বিভিন্ন দেশে তিনি আর্থিক জালিয়াতি, পরিচয় চুরি এবং ভুয়া ব্যবসা চালিয়ে বহু শিকারের ক্ষতি করেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জোন্সের কর্মকাণ্ডের উপর আন্তর্জাতিক তদন্ত চলমান রয়েছে। যদিও তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো আদালতী রায় প্রকাশিত হয়নি, তবু বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তার অতীত অপরাধের পুনরায় পর্যালোচনা করছে।

ডকুমেন্টারির মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলো জোন্সের জটিল ব্যক্তিত্ব ও অপরাধের বিস্তৃতি সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে। তার কোরবয় থেকে বিশ্বব্যাপী প্রতারণাকারী হওয়ার পথ এখনো গবেষকদের জন্য বিশ্লেষণের বিষয়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments