আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে রেফারীকে অপমানের অভিযোগে একুটোরিয়াল গিনির ক্যাপ্টেন কার্লোস আকাকপো এবং মিডফিল্ডার জোসে মিরান্ডার ওপর শাস্তি আরোপ করা হয়েছে। গিনি ফুটবল ফেডারেশন বুধবার প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে জানায়, দুজন খেলোয়াড়কে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে। এই সিদ্ধান্তটি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে গিনির দলের আচরণ নিয়ে গৃহীত হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত রবিবার গিনি দল সুদানের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হারের পর কঙ্গো রেফারী মেসি এনকাউনোকে অপমানের অভিযোগে দুজন খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। রেফারীর প্রতি অশোভন মন্তব্যের ফলে ফেডারেশন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
নিষেধাজ্ঞার শর্তে চারটি ম্যাচের মধ্যে দুইটি ম্যাচ এক বছরের জন্য স্থগিত থাকবে বলে ফেডারেশন জানায়। অর্থাৎ, গিনির দল পরবর্তী দুই ম্যাচে অংশ নিতে পারবে না, আর বাকি দুই ম্যাচের জন্য শাস্তি এক বছরের জন্য কার্যকর হবে। এই ব্যবস্থা রেফারীকে সম্মান বজায় রাখতে এবং টুর্নামেন্টের শৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রথমবার কার্যকর হয় গিনির দল আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে হারের পর। সেই ম্যাচের পরেই ফেডারেশন ঘোষণা করে, দুজন খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। গিনি ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টের তিনটি গ্রুপ ম্যাচের সবটিতে পরাজিত হয়েছে এবং ফলস্বরূপ টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়েছে।
একুটোরিয়াল গিনির এই পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক দুর্বল অধ্যায় হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে। দলটি গ্রুপ পর্যায়ে কোনো পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেনি, এবং শূন্য পয়েন্টে টেবিলের শেষ স্থানে শেষ করেছে। শাস্তি আরোপের পাশাপাশি, গিনির ফেডারেশন দলকে ভবিষ্যতে রেফারীকে সম্মানজনকভাবে আচরণ করার নির্দেশনা দিয়েছে।
এদিকে, একই টুর্নামেন্টে বুর্কিনা ফাসোর ক্যাপ্টেন ত্রাওরেকেও ‘আপত্তিকর মন্তব্য’ করার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হারের পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে এবং ফেডারেশন তাকে ১০,০০০ ডলার জরিমানা করে। এই জরিমানা রেফারী ও অফিসিয়ালদের প্রতি অশোভন মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি প্রয়োগের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
শাস্তি ও জরিমানার পরিপ্রেক্ষিতে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফেডারেশনগুলো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। গিনির দুই খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা এবং ত্রাওরের জরিমানা টুর্নামেন্টের নৈতিক মানদণ্ডকে শক্তিশালী করার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে রেফারীকে সম্মানজনকভাবে আচরণ করা এবং খেলাধুলার ন্যায়বিচার রক্ষা করা সকল দলের জন্য অপরিহার্য হবে।



