১ জানুয়ারি ২০২৬-এ রাত দশটায়, বিভিন্ন মহাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ নতুন বছরের স্বাগত জানাতে সমাবেশ করেছিল। সময়ের সূচনায়, বিশ্বজুড়ে আতশবাজি, সঙ্গীত ও শুভেচ্ছা ছড়িয়ে পড়ে, আর একই সঙ্গে গত বছরের উথলানপূর্ণ ঘটনাগুলোর স্মরণও করা হয়।
গত বছরটি তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক অস্থিরতা এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের অব্যাহত রক্তপাতের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে পুনর্গঠন করে, ফলে বহু দেশীয় ও বহুজাতিক সংস্থার মধ্যে টানাপোড়েন দেখা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের গাজা অঞ্চলে ধীরে ধীরে একটি অস্থায়ী শরণাপন্ন চুক্তি গড়ে ওঠে, তবে সুদানের অভ্যন্তরীণ সংঘাত তীব্রতা হারায়নি এবং সেখানকার মানবিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির।
বাতিকানিক ক্ষেত্রে, ভ্যাটিকান নতুন আমেরিকান পোপকে স্বীকৃতি দেয়, যা ধর্মীয় ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। একই সময়ে, বিশ্ববিখ্যাত প্রাণিবিজ্ঞানী জেন গুডলকে হারিয়ে বিজ্ঞান জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে। এছাড়া, লাবুবু পুতুলের হঠাৎ জনপ্রিয়তা তরুণ-যুবকদের মধ্যে এক বিশাল উন্মাদনা সৃষ্টি করে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে, বন্ডি বিচে সংঘটিত গুলিবিদ্ধ হত্যাকাণ্ডের শিকারের স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। রাতের অর্ধরাতের ঘণ্টা বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে রঙিন আতশবাজি ছড়িয়ে পড়ে, যা শহরের সমুদ্রতীরকে আলোকিত করে।
শহরের তটরেখায় ভারী অস্ত্রধারী পুলিশ গার্ড উপস্থিত থাকে, যা সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘটে যাওয়া ১৫ জনের গুলিবিদ্ধ হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপ। ঐ হত্যাকাণ্ডটি অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ত্রিশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ধর্মীয় উৎসবের আক্রমণ হিসেবে রেকর্ড হয়।
সিডনির আইকনিক হারবার ব্রিজকে সাদা আলোয় আলোকিত করা হয়, যা শান্তি ও পুনর্মিলনের প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এই আলোকসজ্জা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি কামনার একটি দৃশ্যমান প্রকাশ।
প্রশান্ত মহাসাগরের কিরিবাটি ও নিউজিল্যান্ড প্রথমে ২০২৬ সালের সূচনা দেখার সুযোগ পায়, তারপরে সিউল ও টোকিওতে একই রকম উদযাপন শুরু হয়। সময়ের পার্থক্য অনুসারে, এই শহরগুলোতে একে একে নতুন বছরের শুভেচ্ছা ও আতশবাজি প্রদর্শিত হয়।
হংকংয়ে, নভেম্বর মাসে একটি বড় অগ্নিকাণ্ডে ১৬১ জনের মৃত্যু ঘটার পর, নতুন বছরের আতশবাজি প্রদর্শনী বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তটি শোকের প্রতি সম্মান জানিয়ে নেওয়া হয় এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ দূর করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জানান যে, যুদ্ধ সমাপ্তির চুক্তি অর্জনের পথে দেশটি প্রায় দশ শতাংশ দূরে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, শীঘ্রই চার বছরের যুদ্ধের শেষের দিকে পৌঁছাবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তার ঐতিহ্যবাহী নববর্ষের বার্তায়, রাশিয়ার জনগণকে ইউরোপের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাতের বিজয় অর্জনে আত্মবিশ্বাস রাখতে আহ্বান জানান।
ইউক্রেনের ভ্যাশগোরদ শহরের একটি সৌন্দর্য স্যালনের ব্যবস্থাপক দারিয়া লুশচিক বলেন, যুদ্ধের কারণে তাদের কাজের পরিবেশ কঠিন হয়ে উঠেছে, তবু গ্রাহকরা এখনও আসছেন। তিনি যোগ করেন, “কোনো কিছুই আমাদের ইউক্রেনীয় নারীদের গ্ল্যামার করার ইচ্ছা থামাতে পারে না।” এই মন্তব্যটি দেশের সাধারণ জনগণের স্থিতিস্থাপকতা প্রকাশ করে।
বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে, লুভরের সাম্প্রতিক গয়না চুরি একটি নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগের উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক শিল্প সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৬ সালের প্রথম দিনটি আনন্দ, শোক, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং কূটনৈতিক বার্তায় পরিপূর্ণ ছিল। বিশ্বজুড়ে মানুষ নতুন বছরের স্বাগত জানাতে একত্রিত হলেও, একই সঙ্গে চলমান সংঘাত ও মানবিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের নীতি ও শান্তি প্রচেষ্টার দিকে দৃষ্টিপাতের আহ্বান জানায়।



