শিক্ষাবর্ষ ২০২৬-এর উদ্বোধনী দিনে প্রাক‑প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা সরাসরি নিজ বিদ্যালয়ে গিয়ে বই সংগ্রহ করতে পারবে। তবে বড় কোনো বই উৎসবের আয়োজন করা হয়নি।
এনসিটিবি অনুযায়ী, প্রাক‑প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ বই মুদ্রণ করা হয়েছে। এই পরিমাণের সব বই নির্ধারিত সময়ে মুদ্রণ, বাঁধাই ও কাটিং শেষ করে দেশের প্রতিটি উপজেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থী প্রথম দিনেরই তাদের সম্পূর্ণ বইয়ের সেট পাবে।
প্রাথমিক স্তরে বই বিতরণে এনসিটিবি বিশেষ দ্রুততা দেখিয়েছে, যাতে শিক্ষার শুরুতে কোনো বাধা না থাকে। বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বই গ্রহণের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে। ঢাকা ও অন্যান্য শহরে সকালবেলা থেকেই আনন্দময় পরিবেশে বই বিতরণ শুরু হয়েছে।
মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল‑ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের বই সরবরাহে কিছুটা চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, মাধ্যমিক স্তরের জন্য প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণ কাজ এখনো চলমান। বর্তমানে পর্যন্ত এই স্তরের বইয়ের মাত্র ৫৮ শতাংশই উপজেলায় পৌঁছেছে।
এর ফলে, প্রথম দিনের মধ্যে সব মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর হাতে সম্পূর্ণ বই পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে এনসিটিবি আশ্বাস দিয়েছে, বাকি বইগুলো দ্রুত মুদ্রণ শেষ করে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রতিটি স্কুলে পাঠানো হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা পুরো সেট পেতে পারে।
গত কয়েক বছর ধরে কোভিড‑১৯ পরিস্থিতি ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে জাঁকজমকপূর্ণ বই উৎসব বন্ধ থাকলেও, নতুন বই পাওয়ার আনন্দ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কমেনি। আজ সকাল থেকে বিভিন্ন স্কুলে বই বিতরণে উল্লাসের পরিবেশ দেখা গেছে।
বিতরণ প্রক্রিয়ার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
প্রাথমিক স্তরের বইয়ের সম্পূর্ণ সেটে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানসহ মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। এসব বই দেশের বিভিন্ন প্রকাশনা কেন্দ্র থেকে মুদ্রণ করে, দ্রুত বাঁধাই ও কাটিং করে উপজেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের ক্ষেত্রে, এখনো কিছু বিষয়ের মুদ্রণ শেষ হয়নি। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও গণিতের উচ্চতর স্তরের পাঠ্যপুস্তকে অতিরিক্ত সময় লাগছে। এনসিটিবি বলেছে, এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা হবে।
বছরের প্রথম সপ্তাহে বাকি বইগুলো সম্পূর্ণভাবে বিতরণ করা হলে, শিক্ষার্থীরা মাঝ-জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের পুরো পাঠ্যপুস্তক সেট পাবে। এ সময় পর্যন্ত শিক্ষকদের সহায়তা ও অতিরিক্ত নোটের মাধ্যমে পাঠ্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।
শিক্ষা খাতে এই ধরনের সময়মত বই বিতরণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন পাঠ্যবই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা শিখন প্রক্রিয়ায় আত্মবিশ্বাসী হবে বলে আশা করা যায়।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: নতুন বই পাওয়ার পর প্রথমে সূচিপত্র ও বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করুন, যাতে পড়ার পরিকল্পনা তৈরি করা যায়। যদি কোনো বিষয়ের বই এখনও না পৌঁছায়, তবে শিক্ষক বা সহপাঠীর সঙ্গে আলোচনা করে সাময়িক উপকরণ সংগ্রহ করুন।



