20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবাংলাদেশের ক্রীড়া ২০২৪: নারী ফুটবলে সাফল্য, শাসনব্যবস্থায় স্থবিরতা

বাংলাদেশের ক্রীড়া ২০২৪: নারী ফুটবলে সাফল্য, শাসনব্যবস্থায় স্থবিরতা

২০২৪ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশে ক্রীড়া জগতের ফলাফল মিশ্র রঙের। নারী ফুটবল দল এশীয় কাপের যোগ্যতা নিশ্চিত করে গর্বের মুহূর্ত এনে দিল, তবে শাসনব্যবস্থার পুরনো রীতিনীতি এখনও অগ্রগতিকে বাধা দিচ্ছে।

নারী ফুটবলের এই সাফল্য দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দফা। দলটি আসন্ন এএফসি নারী এশীয় কাপের জন্য কোয়ালিফাই করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। এই অর্জন জাতীয় গর্বের স্রোত তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যৎ তরুণী খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

ফুটবলে আবারও নতুন উন্মাদনা দেখা গিয়েছে, বিশেষ করে ইংলিশ ক্লাবের হ্যামজা চৌধুরীর দেশে ফিরে আসার পর ভক্তদের আগ্রহ তীব্র হয়েছে। যদিও দলীয় পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা এখনও অনুপস্থিত, তবে স্টেডিয়ামের ভিড় এবং মিডিয়ার আলোচনায় ফুটবলের প্রতি মনোযোগ বাড়ছে।

হকি ক্ষেত্রেও সামান্য আশার আলো দেখা গিয়েছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে, যদিও এখনও কাঠামোগত সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট।

ক্রিকেটে কিছু উজ্জ্বল মুহূর্তের ঝলক দেখা গিয়েছে, তবে তা ধারাবাহিক সাফল্যে রূপান্তরিত হয়নি। সিরিজে জয়লাভের পরেও দলটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারছে না, যা প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কাঠামোর দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।

এই সব সাফল্যের পেছনে একটিই স্থবিরতা – ক্রীড়া শাসনব্যবস্থার পুরনো সংস্কৃতি। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় যে সংস্কারমূলক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবে রূপ পায়নি। ক্রীড়া সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া গড়ে তোলার দিক থেকে অগ্রগতি ধীর।

অস্থায়ী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে আগস্ট ৮ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণের পর, এক প্রাক্তন কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে ক্রীড়া ফেডারেশনের সংবিধানগুলোতে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানগুলোতে গণতান্ত্রিক নীতি ও দায়িত্বশীলতার কাঠামো অনুপস্থিত, যা ক্রীড়া উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ক্রীড়া সংস্থাগুলোতে সিন্দিকেটের প্রভাব, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ধারাবাহিক দায়িত্বহীনতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই বিষয়গুলো ক্রীড়া ক্ষেত্রের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক উন্নয়নকে থামিয়ে রাখে।

উল্লেখযোগ্য যে, তিনি সংবিধান সংস্কারকে শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন। তার মতে, সংবিধানের কাঠামো পরিবর্তন না করলে ক্রীড়া সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে, ফলে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

বছরের শেষের দিকে এই সংস্কারমূলক পরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও দুর্নীতি ও অদক্ষতার বিরুদ্ধে আলোচনা অব্যাহত, তবে দৃশ্যমান পরিবর্তন খুব কমই দেখা গেছে। ক্রীড়া সংস্থার অভ্যন্তরে কাঠামোগত পরিবর্তনের অভাবই মূল বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

অবশিষ্ট সময়ে নারী ফুটবল দল এশীয় কাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে, এবং দেশের ক্রীড়া প্রশাসনকে এই সাফল্যকে ভিত্তি করে শাসনব্যবস্থার সংস্কার ত্বরান্বিত করতে হবে। অন্যদিকে, হকি ও ক্রিকেটের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সারসংক্ষেপে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া ক্ষেত্রে কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত পেয়েছে, তবে শাসনব্যবস্থার পুরনো রীতিনীতি অগ্রগতিকে বাধা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে ক্রীড়া সংস্থার সংবিধান সংস্কার ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা না হলে, এই সাফল্যগুলো এককালীন ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments