ডেঙ্গু রোগের নতুন ৬৮টি কেস গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট হওয়ায়, এই বছর মোট কেসের সংখ্যা ১,০২,৮৬১-এ পৌঁছেছে, যা গত ২৫ বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। একই সময়ে ডেঙ্গু সংক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৪১৩, যা রেকর্ডে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে।
২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৩,১৮,৭৪৯ কেস এবং ১,৭০৫ মৃত্যু রেকর্ড করা হলেও, এই বছরের সংখ্যা এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ ২১,৫৫১ কেস রেকর্ড হয়েছে, তারপরে ঢাকা বিভাগ (সিটি কর্পোরেশন বাদে) ১৭,৩৮৬ কেস এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫,১১৬ কেস রিপোর্ট হয়েছে।
ঢাকা শহরের মধ্যে উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৭,০৫৯ কেস এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৪,৬২৩ কেস শনাক্ত হয়েছে, যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী।
কেসের লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট রোগীর ৬২.৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৫ শতাংশ নারী। মৃত্যুর ক্ষেত্রে পুরুষের অংশ ৫২.১ শতাংশ, নারীর অংশ ৪৭.৯ শতাংশ।
মাসভিত্তিক কেসের প্রবণতা দেখলে, নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ২৪,৫৩৫ কেস রেকর্ড হয়েছে, এরপর অক্টোবরের ২২,৫২০, সেপ্টেম্বরের ১৫,৮৬২, জুলাইয়ের ১০,৬৮৪ এবং আগস্টের ১০,৪৯৬ কেস রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এডিসে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য জানুয়ারি মাস থেকেই সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। সম্পূর্ণ একীভূত মশা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং একটি নিবেদিত মশা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠা কার্যকর হতে পারে।
একটি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ, চট্টগ্রাম ইত্যাদি অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি চালিয়ে যাওয়া সমস্যার সৃষ্টি করে; তাই একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে সমন্বিত নির্দেশনা প্রয়োগ করা উচিত।
কেসের সময়মতো রিপোর্ট না হওয়া আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং দ্রুত তথ্য শেয়ার করা হলে সময়মতো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে, যা রোগের বিস্তার কমাতে সহায়ক হবে।
জনসাধারণের জন্য সুপারিশ: ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত পর্যায়ে মশার breeding site পরিষ্কার রাখা, ঘরে জাল ব্যবহার এবং প্রয়োজনে স্থানীয় স্বাস্থ্য অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম সম্পর্কে জানার জন্য কি আপনি স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন?



