ভিজে হাজারে ট্রফির একদিনের প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুম্বাই দলকে গোয়া দলকে ৮৭ রানে পরাজিত করে। ২৮ বছর বয়সী সারফারাজ খান ৭৫ বলের মধ্যে ১৫৭ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ৫৬ বলেই সেঞ্চুরি, ১৪ ছক্কা ও ৯ চারে গড়ে ২০৯.৩৩ স্ট্রাইক রেট।
টস হেরে মুম্বাই ব্যাটিংয়ে নামল। প্রথমে ইয়াশাসভি জয়সওয়াল ৪৬ রান করে বিদায় নিলেন, ফলে সারফারাজ চার নম্বরে প্রবেশ করলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করে মাত্র ১৫ বলেই ৫০ রান সম্পন্ন করেন, যা ম্যাচের গতি ত্বরান্বিত করে।
সারফারাজের আক্রমণাত্মক শটের ধারাবাহিকতা তাকে দ্রুতই শীর্ষে নিয়ে আসে। ছক্কা মারতে গিয়ে তিনি পঞ্চাশের চিহ্ন পূরণ করার পর কয়েকবার বুক ডন করে নিজের ফিটনেসের দৃঢ়তা প্রকাশ করেন। তার আক্রমণাত্মক স্বভাবই গোয়াকে বড় চাপে ফেলেছিল।
মিডল ওভারগুলোতে সারফারাজের সঙ্গে তার ছোট ভাই মুশির খান ৯৩ রানের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। ২০ বছর বয়সী মুশির ৬০ বলে ৬৬ রান করে দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করেন, তবে শেষপর্যন্ত আউট হয়ে যান। ভাইবোনের এই জুটি মুম্বাইয়ের স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মুশিরের আউটের পরও সারফারাজ থেমে না থেকে শীঘ্রই ১৮ রান যোগ করে ৫৭ রান সম্পন্ন করেন। তবে পরের বলেই তিনি ক্যাচে আউট হয়ে যান, যদিও ইনিংসের বাকি আট ওভারের বেশি সময় বাকি ছিল। তার অবসান সত্ত্বেও দলটি তার উচ্চ স্কোরের ভিত্তিতে জয় নিশ্চিত করে।
মুম্বাই ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৪৪৪ রান করে গোয়াকে ৮৭ রানে পরাজিত করে। গোয়ার আর্জুন টেন্ডুলকার ৮ ওভারে ৭৮ রান করে কোনো উইকেট না নেয়ার পরেও দলটি হারের মুখে পড়ে। এই জয় মুম্বাইকে টুর্নামেন্টে শীর্ষে রাখে।
সারফারাজের ফিটনেস নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন উঠছিল। গত মে মাসে তার বাবা ও কোচ নাওশাদ খান জানান, তিনি দেড় মাসে ১০ কেজি ওজন কমিয়ে ফিটনেসে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছেন। এই পরিবর্তন তার শক্তিশালী পারফরম্যান্সে সহায়তা করেছে বলে মনে করা হয়।
টুর্নামেন্টের পূর্ববর্তী ম্যাচগুলোতে সারফারাজের পারফরম্যান্সও দৃষ্টিগোচর। সিকিমের বিপক্ষে তিনি ৮ রান দিয়ে শুরু করেন, পরে উত্তরাখন্ডের বিরুদ্ধে ৪৯ বলে ৫৫ রান করেন। তৃতীয় ম্যাচে দল আগে থেকেই জয়ী হওয়ায় তাকে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি, ফলে এই ম্যাচে তার বিশাল ১৫৭ রান আরও আলাদা হয়ে দাঁড়ায়।
সিরিজের আগে তিনি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার সায়েদ মুশতাক আলি ট্রফিতে আসামের বিপক্ষে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেন। সাতটি ইনিংসে তিনি গড়ে ৬৫.৮০ রান, স্ট্রাইক রেট ২০৩.০৮ নিয়ে ৩২৯ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে তিনটি ফিফটি অন্তর্ভুক্ত। এই ধারাবাহিকতা তাকে ঘরোয়া ক্রিকেটে এক উজ্জ্বল নাম করে তুলেছে।
সারফারাজের এই পারফরম্যান্স জাতীয় দলের নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার উচ্চ স্কোর এবং আক্রমণাত্মক শৈলী তাকে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।
মুম্বাইয়ের পরবর্তী ম্যাচে তারা একই টুর্নামেন্টের আরেকটি দলকে মুখোমুখি হবে, যেখানে সারফারাজের ব্যাটিং ফর্ম বজায় রাখলে দলকে আরও জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। তার ফিটনেস ও শটের বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে মুম্বাইয়ের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী হবে।



