ঢাকার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী মঙ্গলবার সকল জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের সমবেত করে এক কঠোর নির্দেশনা জানালেন। তিনি আদালতের কর্মঘণ্টার মধ্যে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার অনুমোদন না করার এবং তা লঙ্ঘন করলে তৎক্ষণাৎ বিচারিক ক্যারিয়ার শেষ হবে বলে সতর্ক করেন।
চৌধুরী ২৩ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির দ্বারা নিযুক্ত হন এবং ২৮ ডিসেম্বর নিজ দায়িত্ব গ্রহণের শপথ গ্রহণ করেন। নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে প্রথম দফায় তিনি এই সতর্কতা প্রদান করেন, যা তার শাসনকালে বিচারিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
বক্তব্যটি সুপ্রিম কোর্টের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের সব স্তরের অধস্তন আদালতের বিচারকগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান বিচারপতি আদালতের পরিবেশ, দ্রুত আদেশ ও রায় প্রদান, এবং বিচারিক সততা রক্ষার গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়ে বলেন। তিনি কোর্টে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তির প্রবেশ নিষেধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার সংক্রান্ত প্রধান নির্দেশনা স্পষ্ট: কর্মঘণ্টার সময় ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে কোনো ধরনের লগইন বা পোস্ট করা যাবে না। যদি কোনো বিচারক এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিচারিক পদ তৎক্ষণাৎ শেষ হবে এবং তাকে সেবা থেকে বরখাস্ত করা হবে।
এই কঠোর নীতি অনুসরণ না করলে বিচারিক ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, এই ধরনের শাস্তি বিচারিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থার পুনর্নির্মাণের জন্য অপরিহার্য।
অধিকন্তু, তিনি আদালতের অভ্যন্তরে দ্রুত রায় প্রদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিচারকগণকে নির্দেশ দেন যে, কোনো মামলার শোনানি ও নিষ্পত্তির পর তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে রায় প্রকাশ করতে হবে। সময়মতো রায় না দিলে মামলার নথি পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে, যা সময় ও সম্পদের অপচয় ঘটাবে।
বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্রুততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, প্রধান বিচারপতি আদালতের পরিবেশকে ন্যায়সঙ্গত ও নির্ভুল রাখতে জোর দেন। তিনি বিচারকগণকে সততা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রতি শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখতে আহ্বান জানান।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কোনো বিচারিক কর্মকর্তা যদি দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণে ধরা পড়ে, তবে তাকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং তার পদমর্যাদা তৎক্ষণাৎ বাতিল করতে হবে। এই নীতি বিচারিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মূল স্তম্ভ।
বিচারকদের দ্রুত রায় প্রদানের নির্দেশনা অনুসরণ না করলে, মামলার পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন হবে, যা বিচারিক সিস্টেমের কার্যকারিতা হ্রাসের দিকে নিয়ে যাবে। প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, এই ধরনের বিলম্ব জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস করে।
কিছু বিচারক এই কঠোর নির্দেশনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার কখনো কখনো জরুরি তথ্য আদানপ্রদান বা আইনি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে। তবে প্রধান বিচারপতি জোর দিয়ে বলেন, কাজের সময়ে এই ধরনের ব্যবহার অন্য উপায়ে করা উচিত এবং আদালতের শৃঙ্খলা রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ভবিষ্যতে, প্রধান বিচারপতি এই নীতি কার্যকর করতে তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি আদালতের অভ্যন্তরে পর্যবেক্ষণ দল গঠন, লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত এবং শাস্তি নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন। এই পদক্ষেপগুলো বিচারিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।



