মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটা-তে মঙ্গলবারের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সোমালি বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের মধ্যে জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগে নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। একই দিনে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজে জানিয়েছেন যে, ফেডারেল সরকার জালিয়াতি প্রমাণিত হলে এই নাগরিকদের স্বাভাবিকীকরণ রদ করার কথা ভাবছে। এই পদক্ষেপের পেছনে মিনেসোটা রাজ্যের সর্ববৃহৎ শহর মিনিয়াপোলিসে সোমালি আমেরিকানদের পরিচালিত কিছু ডে-কেয়ার সেন্টারে জালিয়াতি সন্দেহের ফলে $185 মিলিয়ন ফেডারেল সাবসিডি স্থগিত করা হয়েছে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে উল্লেখ করে বলেছেন, মিনেসোটা রাজ্যের জালিয়াতির প্রায় ৯০ শতাংশই অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা সোমালি নাগরিকদের কারণে ঘটছে। তিনি কংগ্রেসের সোমালি আমেরিকান প্রতিনিধি ইলহান ওমরকে “অনেক স্ক্যামারদের মধ্যে একজন” বলে সমালোচনা করেন এবং “তাদেরকে সোমালিয়ায় ফেরত পাঠানো উচিত, যা পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি” বলে মন্তব্য করেন। এই ধরনের রেটোরিক্সের মাধ্যমে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে জড়িত জালিয়াতি মামলাগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন।
মিনেসোটা রাজ্যের ডে-কেয়ার সেক্টরে সোমালি আমেরিকান মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে জালিয়াতি অভিযোগ উত্থাপনের পর ফেডারেল সরকার $185 মিলিয়ন সাবসিডি স্থগিত করেছে। এই অর্থ মূলত নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাশ্রয়ী শৈশব যত্ন নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হতো। সাবসিডি স্থগিতের ফলে বহু পরিবার আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে এবং ডে-কেয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও কার্যক্রমে বাধা পেয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজে জানিয়েছেন, প্রশাসন বর্তমানে জালিয়াতি প্রমাণিত হলে নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ও স্টেট সেক্রেটারির হাতে রয়েছে এবং এটি “একটি সরঞ্জাম” হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপের জন্য কঠোর প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন, যা সহজে সম্পন্ন হয় না।
আইনি বিশ্লেষকরা জানান, স্বাভাবিকীকরণ বাতিলের প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রে খুবই বিরল এবং সাধারণত তখনই প্রয়োগ করা হয় যখন প্রমাণ করা যায় যে নাগরিকত্ব প্রাপ্তি মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় উচ্চমানের প্রমাণের পাশাপাশি আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন, যা দীর্ঘ সময় নিতে পারে। তাই, যদিও প্রশাসন এই বিকল্পটি বিবেচনা করছে, বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।
ট্রাম্পের এই ধরনের ইমিগ্রেশন‑সংক্রান্ত রেটোরিক্স তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই দেখা যায়। ২০১৫ সালে তিনি মেক্সিকো থেকে “অপরাধী ও ধর্ষক” প্রবেশের কথা উল্লেখ করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ইল্যান্ডে বসবাসকারী হাইতিয়ানদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছিলেন। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে, তিনি প্রায়ই অভিবাসী সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন।
নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা উত্থাপনের ফলে সোমালি আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত তৈরি হয়েছে। সমর্থকরা দাবি করছেন যে, এই পদক্ষেপটি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়, তবে সমালোচকরা এটিকে বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক নীতি হিসেবে দেখছেন। আইনগত চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি, এই বিষয়টি ২০২৪ সালের নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ অভিবাসী ভোটার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বিবৃতি সোমালি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মধ্যে জালিয়াতি মামলায় নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। যদিও আইনি বাধা ও প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা এই পদক্ষেপকে কঠিন করে তুলতে পারে, তবে রাজনৈতিকভাবে এটি ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন‑সংক্রান্ত কঠোর নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যায়। ভবিষ্যতে কীভাবে এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হবে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী নীতি ও রাজনৈতিক দৃশ্যপট কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



