প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের শেষের দিকে হোয়াইট হাউস পুনরায় দখল করার পর প্রথম দু’টি আইনকে ভেটো করে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা ও নির্বাহী শাখার মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছেন। ভেটো করা দুইটি বিল উভয়ই কংগ্রেসে দ্বিপাক্ষিক সমর্থন পেয়ে পাশ হয়েছে, ফলে পার্লামেন্টারিয়ানরা আগামী বছরে ভোটের মাধ্যমে ভেটো উল্টানোর সম্ভাবনা রাখে। প্রথম বিলটি কোলোরাডোর একটি স্থানীয় প্রকল্পের জন্য অর্থ কমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ছিল, যেখানে দ্বিতীয়টি ফ্লোরিডার একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পকে সমর্থন করছিল।
কোলোরাডোর জন্য প্রস্তাবিত আইনটি রিপাবলিকান প্রতিনিধি লরেন বোবের্টের উদ্যোগে সংসদে গৃহীত হয়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল রঙের রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে নতুন পানির পাইপলাইন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সম্প্রদায়ের আর্থিক দায় কমানো। তবে ট্রাম্পের প্রশাসন এই পরিকল্পনাকে অর্থনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল বলে বিবেচনা করে ভেটো করে, এবং যুক্তি দেয় যে ট্যাক্সদাতাদেরকে ব্যয়বহুল ও অনির্ভরযোগ্য নীতিতে অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়।
দ্বিতীয় বিলটি ফ্লোরিডার একটি নেটিভ আমেরিকান ট্রাইবের বন্যা প্রশমন প্রকল্পকে সমর্থন করার জন্য প্রণীত হয়েছিল। এই গোষ্ঠী ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ নামে পরিচিত একটি নির্মাণ কাজের বিরোধিতা করছিল, যা তাদের বাসস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আদালতে মামলা দায়ের করেছিল। কংগ্রেসের অধিকাংশ সদস্যের সমর্থন সত্ত্বেও ট্রাম্প এই বিলটিকেও ভেটো করেন, যদিও তিনি সরাসরি কোনো বিশদ ব্যাখ্যা দেননি।
ট্রাম্পের অফিসিয়াল বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে কোলোরাডোর পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে ফেডারেল সরকারের জন্য আর্থিক ক্ষতি সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে পাইপলাইন নির্মাণের পর ফেডারেল রিকোয়েস্টের পরিশোধে প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন যে তার প্রশাসন ট্যাক্সদাতাদেরকে অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল প্রকল্পে জড়িয়ে না রাখার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
লরেন বোবের্ট, যিনি এই দুইটি বিলের একটির স্পনসর ছিলেন, ট্রাম্পের ভেটোর পর সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম X-এ মন্তব্য করেন যে এই সিদ্ধান্তের ফলে বিষয়টি শেষ হয়নি এবং তিনি ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তিনি আরও আশাবাদ প্রকাশ করেন যে ভেটোটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফল নয়, তবে তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে তিনি এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত।
দ্বিপাক্ষিক সমর্থন পেয়ে পাশ হওয়া এই দুইটি আইন কংগ্রেসে যথেষ্ট ভোট সংগ্রহের সম্ভাবনা রাখে, যা ভেটো উল্টানোর দরজা খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষের কিছু সদস্যই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করছেন এবং আইনকে কার্যকর করার পক্ষে মত প্রকাশ করছেন।
ট্রাম্পের কোলোরাডোর রাজনীতিবিদদের সঙ্গে বিরোধের আরেকটি দিক হল টিনা পিটার্সের মামলায় তার হস্তক্ষেপ। ৭৩ বছর বয়সী কাউন্টি ক্লার্ক টিনা পিটার্স ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভুল দাবি করে এবং নির্বাচনী নিরাপত্তা সংক্রান্ত অপরাধে ফেডারেল ও রাজ্য আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি তার ফেডারেল অভিযোগ থেকে তাকে দম্পতি করে ফেলেছেন এবং ডেমোক্র্যাট গভার্নর জ্যারেড পোলিসকে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
গভার্নর পোলিসের মতে পিটার্সের মামলা শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল এবং তিনি কোনো নির্বাহী হস্তক্ষেপের পক্ষে না। তিনি যুক্তি দেন যে আইনগত প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা বজায় রাখা উচিত এবং কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অনুমতি নেই। ট্রাম্পের “টিনা পিটার্সকে মুক্ত করুন” শিরোনামের পোস্টটি তার সমর্থকদের মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং রিপাবলিকান পার্টির “মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন” শাখার মধ্যে এক ধরনের সমন্বয় গড়ে তুলতে পারে।
এই ভেটো এবং টিনা পিটার্সের বিষয়ক সংঘাতের ফলে রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে নীতি ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নিয়ে বিতর্ক তীব্রতর হয়েছে। কিছু সংরক্ষণশীল নেতা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে পার্টির ঐক্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে তার সমর্থকরা তাকে পার্টির মূল মূল্যবোধ রক্ষার জন্য প্রশংসা করছেন। আগামী বছর কংগ্রেসে ভেটো উল্টানোর প্রচেষ্টা, পাশাপাশি টিনা পিটার্সের মামলার আইনি প্রক্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মোড় আনতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের প্রথম দুইটি বিলের ভেটো কোলোরাডো ও ফ্লোরিডার স্থানীয় প্রকল্পকে থামিয়ে দিয়েছে, তবে দ্বিপাক্ষিক সমর্থন ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য ওভাররাইড ক্ষমতা এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে টিনা পিটার্সের মামলায় ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ পার্টির অভ্যন্তরে তীব্র মতবিরোধের সূচনা করেছে, যা রিপাবলিকান নীতি নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



