ঢাকায় জামায়াত‑ই‑ইসলামির আমীর শফিকুর রহমান ২০২৫ সালে একটি ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেই সাক্ষাৎ গোপন রাখতে চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সাক্ষাৎটি তার দফতরে রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে উন্মোচিত হয়, যেখানে তিনি গোপনীয়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “কেন? এমন অনেক কূটনীতিক আমাকে দেখেছেন এবং তা প্রকাশ পেয়েছে। সমস্যাটা কোথায়?” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সবার সঙ্গে খোলামেলা হওয়া দরকার, সম্পর্ক গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।” তার এই মন্তব্য বুধবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।
এই প্রকাশের পটভূমিতে রয়েছে নতুন দিল্লি সরকারের বাংলাদেশে গঠন হতে পারে এমন পরবর্তী সরকারের সঙ্গে সংলাপের প্রচেষ্টা। আগস্ট ২০২৪-এ শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর, ভারত বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাক্ষাৎকারের বিষয়টি গোপনীয় রাখতে চাওয়া সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে একটি ভারতীয় সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে দেশের কূটনীতিকরা বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখছে। একই সময়ে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বুধবার ঢাকায় এসে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন, যিনি মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেন।
শফিকুর রহমান জামায়াতের ঐতিহাসিক পাকিস্তান‑সঙ্গতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমরা সব দেশের সঙ্গে সমতা বজায় রেখে সম্পর্ক রক্ষা করি, কোনো এক দেশের দিকে ঝুঁকি না। সব দেশের প্রতি সম্মান রেখে সমন্বিত সম্পর্ক গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যে কোনো সরকারে জামায়াত অন্তর্ভুক্ত হলে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে না উঠতে পারে, যিনি ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে অপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।”
কূটনৈতিক সংলাপের পাশাপাশি শফিকুর রহমান জোর দেন যে কোনো জোটের জন্য দুর্নীতিবিরোধী নীতি অপরিহার্য। তিনি বলেন, “দুর্নীতি মোকাবেলা করা সকল জোটের শেয়ার্ড এজেন্ডা হওয়া উচিত।” তদুপরি, তিনি উল্লেখ করেন যে প্রধানমন্ত্রী পদটি সর্বাধিক সিট জিতবে এমন দলের হাতে থাকবে।
শফিকুরের মতে, জামায়াতের ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের লক্ষ্য হবে পাঁচ বছরের স্থিতিশীল শাসন নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “যদি সব দল একসাথে আসে, আমরা একসাথে সরকার চালাতে পারি।” এই বক্তব্য জামায়াতের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও সম্ভাব্য জোট গঠনের ইঙ্গিত দেয়।
দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সংলাপের মধ্যে এই গোপনীয় সাক্ষাৎ এবং তার প্রকাশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও ভারতীয় কূটনীতিকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তবু এই সাক্ষাৎ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
শেখ হাসিনা, যিনি বহু মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি, তার সরকারে জামায়াতের অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত। তবে শফিকুরের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, জামায়াত কোনো এক দেশের প্রতি পক্ষপাত না রেখে সমতা বজায় রাখতে চায় এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দলের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক।
এই ঘটনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি দেখা যাচ্ছে, যেখানে কূটনৈতিক সংলাপ, গোপনীয়তা এবং জোটের সম্ভাবনা একসাথে আলোচনার বিষয়। শফিকুরের প্রকাশিত বিবৃতি এবং ভারতের কূটনৈতিক পদক্ষেপের সমন্বয় ভবিষ্যতে কী ধরনের সরকার গঠন হবে তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



