দিলজিত দোসাঞ্জের লুধিয়ানা শহরে নতুন বছরের আগের সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ‘ডিল‑লুমিনাটি ইন্ডিয়া ট্যুর’ কনসার্টে মদ্যপান-সংগীতের ব্যবহার নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চণ্ডীগড়ের সহকারী অধ্যাপক পুণ্ডিত্রাও ধরেনাভার অভিযোগে গায়কের ‘পাতিয়ালা পেগ’, ‘৫ তারা থেকে’ এবং ‘কেস (জীব ভিচো ফিম লাবিয়া)’ মত গানে অ্যালকোহল প্রচারকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ধরেনাভার ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লুধিয়ানা কনসার্টের আগে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে এই গানের লিরিক্স তরুণ শ্রোতাদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে কনসার্টে উপস্থিত শিশু ও কিশোরদের মনের ওপর মদ্যপানকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করা অনুচিত।
অভিযোগের পর পাঞ্জাব সরকারের মহিলা ও শিশু বিভাগে উপ-নির্দেশক একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করেন। নোটিশে লুধিয়ানা জেলার কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, কনসার্ট চলাকালীন গায়ককে উল্লিখিত গানের কোনো অংশ পরিবেশন করা থেকে বিরত রাখতে ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনকে এই নির্দেশ মেনে চলার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
ধরেনাভার উল্লেখ করেন যে, পূর্বে বিভিন্ন কমিশন গায়ককে একই ধরনের গানের পারফরম্যান্স থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্কতা জারি করেছে। যদিও কিছু গানের লিরিক্সে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তবু সংশ্লিষ্ট গানের মূল থিম অ্যালকোহলকে গৌরবপূর্ণভাবে উপস্থাপন করে বলে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এই আইনি পদক্ষেপের পেছনে ২০১৯ সালের পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের একটি রায়ের প্রভাব রয়েছে। সেই রায়ে আদালত পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, জনসমাবেশে অ্যালকোহল, মাদক বা হিংসা প্রচারকারী গানের বাজানো নিষিদ্ধ। রায়ে বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এ ধরনের গানের ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছিল।
ধরেনাভার গায়কের পারফরম্যান্সের সময় পরিধান করা পাগড়ি নিয়ে অতিরিক্ত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী পাগড়ি একটি সম্মানজনক প্রতীক, যা যদি অ্যালকোহল-প্রচারক গানের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তরুণ শ্রোতাদের মধ্যে ভুল ধারণা গড়ে উঠতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি গায়কের আচরণকে সমালোচনা করেন।
দিলজিতের বিরুদ্ধে এই প্রথম আইনি পদক্ষেপ নয়। ২০২৪ সালে হায়দ্রাবাদে একই ধরনের গানের লিরিক্স নিয়ে একটি আইনি নোটিশ জারি করা হয়েছিল। তদুপরি, ইন্দোরে অনুষ্ঠিত একটি কনসার্টেও অনুরূপ অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল, যদিও সেখানেই কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি হয়নি। এই ধারাবাহিকতা গায়কের গানের বিষয়বস্তু নিয়ে সামাজিক সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রশাসনিক নোটিশের ফলে লুধিয়ানা কনসার্টের প্রোগ্রাম পরিবর্তিত হতে পারে। গায়ক ও তার টিমকে এখন থেকে পারফরম্যান্সে উল্লিখিত গানের কোনো অংশ বাদ দিতে হবে অথবা বিকল্প গানে পরিবর্তন করতে হবে। তবে কনসার্টের মূল সময়সূচি ও অন্যান্য গানের তালিকা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনাটি শিল্পের সৃজনশীল স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের মধ্যে সমতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। গায়ক ও সংগীত শিল্পীরা ভবিষ্যতে গানের বিষয়বস্তু নিয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন, আর দর্শকরা কনসার্টে অংশগ্রহণের সময় সামাজিক দায়িত্বের কথা বিবেচনা করতে পারেন।



