জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নাহিদ ইসলাম বলেছেন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হলে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ হাদিকে দেখতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ভূমিকা দুর্বল। প্রশাসনের ভেতরে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য নিরাপত্তা হুমকি। শরীফ ওসমান হাদির ওপর এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার যে ধারাবাহিক অপচেষ্টা চলছে, এটি তারই অংশ।
জুলাই বিপ্লবের চেতনায় বিশ্বাসী সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, দল-মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। যেখানেই ফ্যাসিবাদীদের ষড়যন্ত্র দেখা যাবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আজ রাত থেকেই ছাত্র-জনতা মাঠে থাকবে এবং এই রাত ‘প্রতিরোধ ও দোয়ার রাত’ হিসেবে পালিত হবে। তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং নির্বাচন কমিশনকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথা বলেন।
এই ঘটনায় সরকারের প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সরকারি উত্স থেকে জানা যায়, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। এই ঘটনায় বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
নাহিদ ইসলামের এই আল্টিমেটাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা দেখার বিষয়। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।



