মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের স্ত্রী রসমাহ মানসুরের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও কর ফাঁকির মামলায় খালাস বহাল থাকছে। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, অভিযোগ প্রমাণের পর্যাপ্ত উপাদান না থাকায় তারা আপিল থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
রসমাহ মানসুর এবং তার স্বামী নাজিব রাজাক ২০১৮ সাল থেকে ১এমডিবি দুর্নীতি কেলেঙ্কারি–সম্পর্কিত একাধিক তদন্তের মুখোমুখি হন। দু’জনই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কুয়ালালামপুর হাই কোর্ট ১২টি মানি লন্ডারিং ও ৫টি কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ থেকে রসমাহকে খালাস দেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও, মঙ্গলবার সেই আবেদন প্রত্যাহার করে নেয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের চেম্বারস (AGC) জানায়, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের মৃত্যু হওয়ায় অভিযোগ ‘যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
রসমাহর আইনজীবী জানায়, তারা আপিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং রসমাহ শুরু থেকেই তার নির্দোষ দাবি করে আসছেন। AGC আরও জানায়, এই সিদ্ধান্ত রসমাহর বিরুদ্ধে চলমান অন্যান্য মামলার ওপর প্রভাব ফেলবে না।
২০২২ সালের এক মামলায় নাজিব সরকারের সময়ে ২৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে রসমাহ ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। সেই মামলার রায়ের বিরুদ্ধে তার আপিল এখনো বিচারাধীন এবং তিনি জামিনে রয়েছেন।
রসমাহকে ঘিরে এ সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন নাজিবের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দুটি রায় আসছে। দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং মামলায় নাজিব বর্তমানে ছয় বছরের সাজা কাটাচ্ছেন। আগামী ২২ ডিসেম্বর আদালত ঠিক করবে, তিনি কারাগারের বদলে বাড়িতে থেকে সাজা ভোগ করতে পারবেন কি না। আর ২৬ ডিসেম্বর আসছে তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ১এমডিবি মামলার রায়।
১এমডিবি থেকে বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে নাজিবের বিরুদ্ধে বহু মামলা ছিল, যার কিছু ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। নাজিব বরাবরই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
এই মামলার বিচার এখনো চলছে। আদালতের পরবর্তী শুনানি অপেক্ষা করা যাক।



