কক্সবাজারের নুনিয়াছটায় বিআইডব্লিউটিএর জেটিঘাটে একটি ঘটনা ঘটেছে। সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকালে একদল পর্যটক ঘাটে হাজির হয়। তারা নির্ধারিত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একজন পর্যটক নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ইউএনওকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়।
ঘাটে উপস্থিত জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, বাঁকখালী নদীর জোয়ার-ভাটা একেক সময় একেক রকম। জোয়ার-ভাটা বিবেচনা করে জাহাজ ছাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। ইউএনওর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা পর্যটক ঘাটে এসে জাহাজ দেখতে না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির নাম ইব্রাহিম। তিনি হয়তো ঘাটে থাকা ইউএনওকে চিনতে পারেননি। সাধারণ নারী মনে করে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়েছেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি ইউএনওর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পরে আরেকটি জাহাজে পর্যটকদের দল সেন্ট মার্টিনে যায়।
নুনিয়াছটায় বিআইডব্লিউটিএর জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল সাতটায় সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ ছাড়ে। কয়েকটি জাহাজে দৈনিক দুই হাজার পর্যটকের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়। জাহাজে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন যাতে করা না হয়, সে বিষয়টি তদারকি করে ইউএনওর নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি। ১ ডিসেম্বর কক্সবাজার–সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সেন্ট মার্টিনে রাত্রী যাপনের সুযোগও রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের সরকার ঘোষিত ১২টি নির্দেশনা মেনে চলতে হচ্ছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দ্বীপটি ভ্রমণের সুযোগ থাকবে।
এই ঘটনার পর থেকে ইউএনও ও পর্যটকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইউএনও জানিয়েছেন, তারা এই ঘটনার তদন্ত করছেন। পর্যটকরা জানিয়েছেন, তারা এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের দাবি করছেন।
এই ঘটনা সেন্ট মার্টিনের পর্যটন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সরকারকে এই ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।



