একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় টাঙ্গাইল জেলায় অনেকগুলি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এসব যুদ্ধের মধ্যে ভূঞাপুরের মাটিকাটা এলাকায় পাকিস্তানি জাহাজে আক্রমণ অন্যতম। এই আক্রমণের ফলে পাকিস্তানি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং মুক্তিবাহিনীর হাতে অনেক অস্ত্র ও সরবরাহ এসে পড়ে। এই ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস বইতে উল্লেখ আছে।
পাকিস্তানি বাহিনী তাদের সাতটি জাহাজে অস্ত্র ও সরবরাহ নিয়ে ঢাকার সদরঘাট থেকে রওনা হয়। এসব জাহাজের গন্তব্য ছিল উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধার ফুলছড়িঘাট। সেখান থেকে এসব অস্ত্র ও সরবরাহ রংপুর ও সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্টে নেওয়া হবে। এসব জাহাজ ১৫ আগস্টের আগেই সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের মাটিকাটা এলাকা অতিক্রম করবে।
৯ আগস্ট রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর সাতটি জাহাজ ভূঞাপুরের ধলেশ্বরী নদীর সিরাজকান্দি ঘাটে নোঙর করে। এই খবর দ্রুত স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের দলনেতা হাবিবুর রহমান তার সহযোদ্ধাদের নির্দেশ দেন যে জাহাজে আক্রমণ করে অস্ত্র ও সরবরাহ নিতে পারলে মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
১১ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে জাহাজগুলি মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের কাছাকাছি চলে আসে। মুক্তিযোদ্ধারা মর্টার, এলএমজি ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে জাহাজগুলির উপর আক্রমণ করে। এই আক্রমণের ফলে পাকিস্তানি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং মুক্তিবাহিনীর হাতে অনেক অস্ত্র ও সরবরাহ এসে পড়ে।
এই ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। এই আক্রমণের ফলে পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল ভেঙে যায় এবং মুক্তিবাহিনীর সাহস ও সংগঠন বৃদ্ধি পায়।



