বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার পাকিস্তানের পরাজয় ঠেকাতে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন এই প্রস্তাবে ভেটো দেয়।
ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ২০ বছর মেয়াদি ‘শান্তি, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার চুক্তি’ সাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির কারণে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল।
পাকিস্তানের হামলার জবাবে ভারত যুদ্ধ ঘোষণা করলে নিউইয়র্কে সকাল হয়। ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তুলবে এটা নিশ্চিত ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিপরীতে পাল্টা প্রস্তাব তুলবে।
ইয়াকফ মালিক বলেছেন, ‘আমরা যদি উটপাখির মতো বালুতে মাথা গুঁজে থাকতে চাই, তাহলে এ নিয়ে ভাবার কিছু নেই। কিন্তু বাস্তব সত্য যদি আমরা জানতে চাই, কেন এ দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ দেখা দিয়েছে, তাহলে সংকটের মূল কারণ জানতে হবে।’
সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশে পাকিস্তানের সামরিক হামলা ও গণহত্যার নিন্দা করেছে। তবে তখন পর্যন্ত বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবির কথা স্পষ্টভাবে তারা উল্লেখ করেনি। ৪ ডিসেম্বরের অধিবেশনে ইয়াকফ মালিক এই অধিকারের স্বীকৃতি দেন।
এই ঘটনার ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো মার্কিন প্রস্তাবকে প্রতিহত করেছিল। এই ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে রয়েছে।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ আরও বেগবান হয়েছিল। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল। এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে রয়েছে।



