নারায়ণগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। এ বৈঠকের মাধ্যমে জামায়াতের প্রার্থীরা ফেব্রুয়ারির ভোটে শিক্ষকদের ওপর প্রভাব তৈরির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করছেন বিএনপি নেতারা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা নারায়ণগঞ্জ ৫ নম্বর আসনের মঈনুদ্দিন আহমাদ এবং নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের আবদুল জব্বার বৈঠকের বিষয় এড়িয়ে যাচ্ছেন না। তাদের ফেইসবুকে তা নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে।
আবদুল জব্বারের দাবি শিক্ষকদের সঙ্গে এ ধরনের সভা নির্বাচনকে ‘প্রভাবিত’ করার উদ্দেশ্যে নয়। দোয়া চাইতে ও সালাম দিতে স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অন্তত ২০০ স্কুলে যাওয়ার তথ্য দেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার আমির জব্বার তফসিল ঘোষণার আগে এই ধরনের কার্যক্রম নির্বাচনি আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় বলেও দাবি করেন। বলেন, “যেহেতু আজ (বৃহস্পতিবার) নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা হয়েছে, সে হিসাবে আজকে থেকে কারও করা উচিত হবে না।”
নগরীর একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, “ওনারা এসে আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। আমরাতো আর না করতে পারি না। ওনারা কথা বলেছেন, আমরা শুনেছি, এই পর্যন্তই। এটি একটি সামাজিকতা।”
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের এ ধরনের কার্যক্রম নজরে আসার তথ্য দিয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম নির্বাচনি মাঠের ‘নিরপেক্ষতাকে’ বাধাগ্রস্ত করবে।
“জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বিষয়টি আমাদেরও পরিলক্ষিত হয়েছে। এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এটি সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা তৈরিতে কাজ করবে। কেননা ভোটগ্রহণের সময় শিক্ষকরা দায়িত্বে থাকবেন। সেক্ষেত্রে যদি তাদেরকে আগে থেকেই দলীয়ভাবে প্রশিক্ষণ ও তালিম দেওয়া হয় তাহলে নির্বাচন কলুষিত হবে। এভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। এটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অন্তরায়।”
তবে বিএনপি নেতার এমন বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুল জব্বারের দাবি এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় বলে মনে করা হচ্ছে।



