বগুড়ায় এক অচঞ্চলকর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়ার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বর থেকে এক আসামি পালিয়ে গেছে। আসামির নাম শাহীন ওরফে মিরপুর, বয়স ২০ বছর। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম চাঁনপাড়া এলাকার নুর আলমের ছেলে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ ডিসেম্বর রাতে বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির জিডি নং–১৭৬-এর ভিত্তিতে চকসূত্রাপুর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে শাহীনকে আটক করা হয়। স্থানীয়রা আচরণ সন্দেহজনক মনে করলে আকবরিয়া হোটেলসংলগ্ন এলাকায় তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে হাজিরার পর তাকে প্রিজন ভ্যানে তোলার প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সেই সময় হাতকড়া খুলে দ্রুত দৌড়ে আদালত এলাকা থেকে পালিয়ে যায় শাহীন। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে না পারায় মুহূর্তের মধ্যেই সে উধাও হয়ে যায়।
আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনস্পেক্টর শহীদুল ইসলাম জানান, আসামি পালিয়ে গেছে—এটা নিশ্চিত। তাকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে এবং খুব দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তারের আশা করা হচ্ছে। ঘটনার পর আদালত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুলিশের গাফিলতি নিয়ে শহরজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, তিন মাস আগেও একই ধরনের ঘটনায় একজন আসামি পালিয়ে গিয়েছিল, তবে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছিল পুলিশ। এই ঘটনার পর আদালত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, শাহীনকে ধরতে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। তারা শহরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় মানুষদের সাহায্য নিয়ে শাহীনকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় আদালত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। পুলিশ ও আদালত কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তদন্ত করছে। তারা জানতে চাইছে, শাহীন কীভাবে পালিয়ে গেছে এবং কে কে এই ঘটনায় জড়িত।



