টুইচ মঙ্গলবার তার সাসপেনশন নীতি পুনর্গঠন ঘোষণা করেছে, যা পূর্বের একক শাস্তি পদ্ধতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুটি পৃথক শাস্তি প্রয়োগ করবে। এই পরিবর্তন ব্যবহারকারীর লঙ্ঘনের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপের লক্ষ্য রাখে।
এর আগে, টুইচে কোনো সাময়িক সাসপেনশন মানে ব্যবহারকারী সম্পূর্ণভাবে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার হারাতেন; চ্যাট, স্ট্রিম দেখা এবং মৌলিক তথ্য অ্যাক্সেস সবই বন্ধ হয়ে যেত। এই একক পদ্ধতি প্রয়োগে সহজ হলেও, কখনও কখনও অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহারকারীর সব কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে যেত।
নতুন নীতিতে দুই ধরনের সাসপেনশন থাকবে: স্ট্রিমিং সাসপেনশন এবং চ্যাট সাসপেনশন। লঙ্ঘনের স্থান ও প্রকার অনুযায়ী যথাযথ শাস্তি নির্ধারিত হবে, ফলে ব্যবহারকারী শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকবে।
যদি কোনো ব্যবহারকারী লাইভ স্ট্রিমের সময় কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘন করেন, তার অ্যাকাউন্টে স্ট্রিমিং সাসপেনশন আরোপিত হবে এবং তার চ্যানেলের চ্যাট সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকবে। তবে এই সময়ে ব্যবহারকারী অন্য স্ট্রিমার চ্যানেল দেখতে, অন্যের চ্যাটে অংশ নিতে এবং নিজের ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করতে পারবেন।
স্ট্রিমিং সাসপেনশনের সময় ব্যবহারকারী তার পূর্বে তৈরি করা ক্লিপ ও ভিডিও এখনও দর্শকদের জন্য উপলব্ধ থাকবে। এছাড়া তিনি লগইন অবস্থায় অন্যান্য স্ট্রিম উপভোগ করতে এবং টুইচের অন্যান্য ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন।
অন্যদিকে, যদি কোনো ব্যবহারকারী চ্যাটে গাইডলাইন লঙ্ঘন করেন, তাকে চ্যাট সাসপেনশন দেওয়া হবে। এই শাস্তিতে তিনি অন্য স্ট্রিমের চ্যাটে মন্তব্য করতে পারবেন না, তবে নিজের চ্যানেলে স্ট্রিম চালাতে এবং অন্যের স্ট্রিম দেখতে পারবেন।
চ্যাট সাসপেনশন প্রাপ্ত ব্যবহারকারী তার নিজের চ্যানেলের চ্যাটে এখনও মন্তব্য করতে পারবেন, ফলে তার সম্প্রচার চলাকালীন দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় থাকবে। তবে তিনি অন্য স্ট্রিমার চ্যাটে অংশ নিতে পারবেন না, যা সম্ভাব্য বিরোধী কথোপকথন সীমিত করে।
টুইচ উল্লেখ করেছে যে উচ্চ মাত্রার লঙ্ঘন হলে ব্যবহারকারীকে একসাথে স্ট্রিমিং ও চ্যাট উভয় সাসপেনশন আরোপিত হবে, যাতে সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এই দ্বিগুণ শাস্তি গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দ্রুত হস্তক্ষেপের সুযোগ দেয়।
সবচেয়ে গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেনশন এবং টুইচের সব ধরনের প্রবেশাধিকার থেকে বাদ দেওয়া হবে। টুইচ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে এমন লঙ্ঘনের জন্য কোনো স্থান নেই এবং তা সহ্য করা হবে না।
সাময়িক সাসপেনশনের সময়সীমা পূর্বের মতোই থাকবে; এটি ২৪ ঘন্টা থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পরিবর্তিত হবে। প্রতিটি নতুন লঙ্ঘনের সঙ্গে শাস্তির সময় বাড়বে, এবং পুনরাবৃত্তি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর হবে।
এই নীতি পরিবর্তন টুইচের কমিউনিটি গাইডলাইনকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে প্রয়োগের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট আচরণ অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণের মাধ্যমে অতিরিক্ত সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে, সঠিক আচরণকে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
টুইচের এই পদক্ষেপ লাইভ স্ট্রিমিং ইকোসিস্টেমে ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ শাসন নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীরা লঙ্ঘনের ধরণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শাস্তি পাবে, যা প্ল্যাটফর্মের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তা উন্নত করবে।



