টি‑২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান মুখোমুখি হয়। ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন ব্রুক প্রথম অধিনায়ক হিসেবে শতক তৈরি করে, ফলে দলটি লক্ষ্যভেদ করে এবং সেমিফাইনালে অগ্রসর হয়।
ম্যাচের ১৭তম ওভারে পাকিস্তানের বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি ব্রুককে বোল্ড করেন। শটটি শীঘ্রই শতক অর্জনে রূপ নেয়, যা ইংল্যান্ডের জয়ের পথে বড় ধাপ হয়ে দাঁড়ায়। শতক অর্জনের পর ব্রুকের উপস্থিতি দলের স্কোরে ত্বরান্বিত করে, যদিও তার পরপরই ইংল্যান্ড তিনটি উইকেট হারায় এবং পাঁচ রান পিছিয়ে থাকে। তখন মাত্র চার রান বাকি থাকায় শেষ ওভারের প্রথম বলেই পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন সালমান আগা চার রান করে, যা জফরা আর্চারের শেষ শটের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়।
ইংল্যান্ডের স্কোরকার্ডে দেখা যায়, ব্রুকের পাশাপাশি দুজনই দুই অঙ্কের রান যোগ করেছে। স্যাম কারেন ১৫ বলে ১৬ রান করেছেন, আর উইল জ্যাকস ব্রুকের সঙ্গে ৩১ বলে ৫২ রান যোগ করে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছেন। এই জুটি ৩১ বলে ৫২ রান তৈরি করে টার্গেটের কাছাকাছি নিয়ে আসে, ফলে শেষ মুহূর্তে জফরা আর্চার একটি চতুর শট দিয়ে জয় নিশ্চিত করেন।
পাকিস্তানের দিক থেকে ক্যাপ্টেন সালমান আগা টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ৪৫ বলে ৭টি চার এবং ২টি ছক্কা মারিয়ে ৬৩ রান সংগ্রহ করেন, যা দলের মোট স্কোরের বড় অংশ। তার পাশে ফারহানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন; যদিও তার স্কোর স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও তার ব্যাটিংই পাকিস্তানকে প্রতিযোগিতার যোগ্য করে তুলেছিল। বাবর আজম ২৪ বলে ২৫ রান যোগ করেন, তবে তার স্ট্রাইক রেট ১১১.৮% দিয়ে টি‑২০ বিশ্বকাপে ৫০০ রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বনিম্ন রেট হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে। শাদাব খান ১১ বলে ২৪ রান করে, এবং পাকিস্তান ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান তৈরি করে।
ইংল্যান্ডের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল ১৬৫ রান অর্জন করা, যা তারা শেষ ওভারে সফলভাবে অর্জন করে। জয় নিশ্চিত হওয়ার মুহূর্তে জফরা আর্চার একটি চতুর চারের মাধ্যমে শেষ রানের চাহিদা পূরণ করেন, ফলে ইংল্যান্ড ৫ রানের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে অগ্রসর হয়।
এই জয় ইংল্যান্ডের জন্য ঐতিহাসিক, কারণ এটি টি‑২০ বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর মাইলফলক। ব্রুকের শতক, জ্যাকসের স্থিতিশীল অংশীদারিত্ব এবং আর্চারের শেষ মুহূর্তের শট মিলিয়ে দলটি এই গুরুত্বপূর্ণ জয় অর্জন করেছে।
পাকিস্তানের পরবর্তী ম্যাচে তারা পুনরায় রোস্টার থেকে সুযোগ পাবে কিনা এখনো অনিশ্চিত, তবে সালমান আগা ও তার দলের পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। ইংল্যান্ডের পরবর্তী সেমিফাইনাল ম্যাচের সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে দলটি এখন চূড়ান্ত ফাইনাল পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।



