ক্যান্ডির সুপার‑ইটস ম্যাচে ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন হ্যারি ব্রুক প্রথমবারের মতো T20 আন্তর্জাতিক শতক তৈরি করে দলকে সেমিফাইনালে নিশ্চিত করেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে দু‑উইকেট জয়ে ইংল্যান্ড ১৬৫ লক্ষ্যপূরণ করে, শেষ পাঁচ বল বাকি রেখে জয় অর্জন করে। এই জয়ই ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে নিয়ে যায়।
পাকিস্তান ১৬৪/৯ স্কোরে শেষ করে, ইংল্যান্ডকে ১২০‑এর বেশি রান চাহিদা রেখে। ইংল্যান্ডের শুরুর গতি মন্দ থাকলেও, ব্রুকের প্রবেশের পর স্কোর দ্রুত বাড়ে। ফিল সল্টের গোল্ডেন ডাকের পরই ব্রুক দ্বিতীয় বলেই ইনিংস শুরু করেন এবং শাহীণ শাহ আফরিদির ক্যাচ‑বিহাইন্ডে সল্টকে আউট করে দলের প্রথম উইকেট নেয়।
ব্রুক ১০১ বলের মধ্যে ১০০ রান করেন, যার মধ্যে চারটি ছয় এবং দশটি চার রয়েছে। তিনি ৫১ ডেলিভারিতে শতক তৈরি করে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুত শতক রেকর্ড করেন এবং ক্যাপ্টেন হিসেবে প্রথম শতক অর্জনকারী হন। তার শটগুলো বিশেষত আফরিদির বোলিংয়ের শেষ দুই বলের ছয় ও চার দিয়ে পূর্ণ হয়, এরপর বাম‑হাতের দ্রুত বোলারকে বোল্ড করে আউট হন।
ব্রুকের ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডের স্কোর ৩৫/৩ থেকে ১৫৫/৬ পর্যন্ত উঠে। এই সময়ে তিনি স্যাম কার্রানের সঙ্গে ৪৫ রানের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন, যেখানে কার্রান ১৬ রান যোগ করেন। উসমান তরিকের দু‑উইকেটের পরেও ব্রুকের আত্মবিশ্বাসে কোনো ক্ষতি হয়নি; তিনি দৃঢ়তা ও দৃঢ়সংকল্পের সঙ্গে ব্যাটিং চালিয়ে যান।
ক্যাপ্টেনের অবস্থান থেকে ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কোচ ব্রেনডন “বাজ” ম্যাককুলামের পরামর্শে নেওয়া হয়। ব্রুক জানান, বাজ সকালে তাকে তৃতীয় নম্বরে পাঠানোর কথা বলেছিলেন এবং তিনি তা গ্রহণ করে “পাকিস্তান আমাদের দল, চলুন চেষ্টা করি” বলে সম্মতি জানিয়েছিলেন। তিনি আরও যোগ করেন, “পাওয়ার প্লে থেকে বেশি সুবিধা নিতে চাইছিলাম এবং প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে চেয়েছি। ভাগ্যক্রমে সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে।”
পাকিস্তানের দিক থেকে শাহীণ শাহ আফরিদি ফিরে এসে ৪/৩০ রেকর্ড করেন, যার মধ্যে জোস বাটলারকে দু‑রান এবং জ্যাকব বেটহেলকে আট রানে আউট করা অন্তর্ভুক্ত। আফরিদির এই পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডের শুরুর চাপকে কমিয়ে দেয় এবং ব্রুকের শাটলকে স্বস্তি দেয়।
ইংল্যান্ডের শেষ পর্যায়ে উইল জ্যাক্স ২৩ বলে ২৮ রান করেন, যার ফলে ব্রুকের সঙ্গে ৫২ রানের দৃঢ় অংশীদারিত্ব গড়ে ওঠে। জ্যাক্সের দ্রুত স্কোরিং ইংল্যান্ডকে শেষের পাঁচ বলের মধ্যে লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করে এবং দু‑উইকেটের জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের পর ইংল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচ সেমিফাইনাল হবে, যেখানে তারা টুর্নামেন্টের শীর্ষ দুই দলে এক স্থান নিশ্চিত করবে।



