জিমি কিমেল সোমবার রাতের মূল অনুষ্ঠান ফিরে এলো, এক সপ্তাহের ছুটির পর। তিনি ১৬ মিনিটের মনোলগের বেশিরভাগ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক তহবিল সংগ্রহের ইমেইল আক্রমণ নিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। শোটি এবিসি নেটওয়ার্কে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
কিমেল জানিয়েছেন, ছুটিতে তিনি বাড়িতে বসে কিছুই করেননি, তাই এই আক্রমণের জন্য কোনো প্রস্তুতি নিতে হয়নি। তিনি ইমেইলের বিষয়শিরোনামকে “DJT: Get Trump out of your mouth” বলে উল্লেখ করে তা ট্রাম্প‑এপস্টেইন ফাইলের কোনো অংশ নয় বলে মন্তব্য করেন।
ইমেইলে কিমেলকে “আবার ফিরে এসেছেন” বলে সমালোচনা করা হয়েছিল, যা কিমেল রসিকতা করে “অনুগ্রহ করে টাকা দিন যতক্ষণ না তার অনুভূতি আর ব্যথা না করে” হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে থাকা প্রেসিডেন্ট কেন তহবিল সংগ্রহের ইমেইল পাঠাচ্ছেন, এবং তা সম্ভবত তার আরোপিত শুল্ক ফেরত দেওয়ার প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
কিমেল উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্ক নীতি বাতিল করেছে এবং তা “ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বোচ্চ আইনি পরাজয়” হিসেবে বিবেচিত। তিনি এটিকে ট্রাম্পের পূর্বের পর্ন স্টার মামলার চেয়েও বেশি লজ্জাজনক বলে তুলনা করেন, যেখানে ট্রাম্পের আচরণও ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করে কিমেল বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউএফও ফাইল ডিক্লাসিফাই করার কথা বলেছিলেন। তিনি রসিকতা করে বলেন, “এখন ট্রাম্প এলিয়েনকে পাঠাচ্ছেন, আর ৩ মিলিয়ন ট্রাম্প‑এপস্টেইন ফাইলের মধ্যে কী থাকতে পারে তা ভাবতে বাধ্য করে।”
কিমেল ট্রাম্পের অনুমোদন হার সম্পর্কে মন্তব্যে বলেন, প্রেসিডেন্ট নিজে ৪০ শতাংশ অনুমোদন হার উল্লেখ করেছেন, কিন্তু কিমেল নিজে ৩৬ শতাংশ অনুমোদন হার দাবি করেন। সর্বশেষ জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন হার তার সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে, বিশেষ করে স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন বক্তৃতার আগে।
কিমেল ট্রাম্পের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন সংখ্যা বাড়ানোর প্রবণতাকে “অস্বাভাবিক রোগ” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এই আচরণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় এবং প্রায়শই বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত হয়।
শোয়ের শেষ অংশে কিমেল দর্শকদেরকে দান করার আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন, “যদি আপনারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইমেইল নিয়ে বিরক্ত হন, তবে দান করুন যাতে তার অনুভূতি আর ব্যথা না করে।” এই বাক্যটি শোয়ের হাস্যরসের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কিমেল শোয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে হাস্যরসের ছোঁয়া দিয়ে উপস্থাপন করেন, যা বিনোদন ও রাজনীতি একসাথে মেশানোর একটি উদাহরণ। তিনি দর্শকদেরকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতি সচেতন থাকতে উৎসাহিত করেন।
সামগ্রিকভাবে, জিমি কিমেল তার ফিরে আসা পর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইমেইল আক্রমণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে, এবং শোয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে হালকা স্বরে উপস্থাপন করেন। এই পর্বটি বিনোদন অনুষদের পাঠকদের জন্য তথ্যপূর্ণ ও মনোরম হয়েছে।



