23.2 C
Dhaka
Wednesday, February 25, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিককলকাতা‑ঢাকা‑আগরতলা আন্তর্জাতিক বাস সেবা ১৭ মাস পর পুনরায় চালু

কলকাতা‑ঢাকা‑আগরতলা আন্তর্জাতিক বাস সেবা ১৭ মাস পর পুনরায় চালু

প্রায় ১৭ মাসের বিরতির পর পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত রুটে ঢাকা হয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা গন্তব্যে একটি আন্তর্জাতিক বাস চালু হয়েছে। প্রথম যাত্রা মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে অতিক্রম করে, যেখানে আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি মো. আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

সাত্তার জানান, তিনজন যাত্রী এবং বাসের স্টাফসহ মোট ছয়জন কর্মী নিয়ে বাসটি সেদেশে প্রবেশ করেছে। প্রথম রাউন্ড ট্রিপটি ২০ ফেব্রুয়ারি কলকাতা থেকে শুরু হয়ে পরের দিনই ঢাকা থেকে ফিরে এসেছে, যা দীর্ঘ সময়ের পর পুনরায় সংযোগের সূচক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মৈত্রী ও শ্যামলী নামের দুটি বাস নিয়মিতভাবে সপ্তাহে ছয় দিন চালু হবে। প্রতিটি রুটে একাধিক ভ্রমণসূচি নির্ধারিত, যা ব্যবসায়িক ও পর্যটন চাহিদা মেটাতে লক্ষ্য রাখে।

প্রারম্ভিক পর্যায়ে যাত্রী সংখ্যা কম থাকলেও, বাংলাদেশে ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা হ্রাস পেলে সেবার ব্যবহার বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশাবাদী। ২০০১ সালে চালু হওয়া এই আন্তর্জাতিক বাস সেবা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল; নির্বাচনের পর বাংলাদেশি ভিসা স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।

ত্রিপুরা রাজ্যের স্থানীয় মিডিয়া এই ঘটনাকে ব্যাপকভাবে তুলে ধরেছে। আগরতলা সীমান্তে সেবা স্বাগত জানাতে রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ফেসবুকে “মৈত্রী ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়” বলে মন্তব্য করেন, যা দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

বিএনপি জেলা সভাপতি মো. মইনুল হোসেন চপলও এই সেবার পুনরায় চালু হওয়াকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে, এবং সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই রুটকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংযোগের একটি মাইলফলক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, “কলকাতা‑ঢাকা‑আগরতলা রুটের পুনরায় চালু হওয়া বাণিজ্যিক প্রবাহ বাড়াবে এবং সীমান্ত পারাপারের সময় কমাবে, যা উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই সেবা অন্যান্য সীমান্ত পারাপার প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে আঞ্চলিক অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করবে।

অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক রাহুল দাস বলেন, “এই ধরনের সেবা কেবল বাণিজ্যিক নয়, মানবিক সংযোগও শক্তিশালী করে। ভবিষ্যতে যদি ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হয়, তবে পর্যটন ও শ্রমিক প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রত্যাশিত।” তিনি ত্রিপুরা ও নিকটবর্তী রাজ্যগুলোতে এই রুটের মাধ্যমে নতুন বাজারের উন্মোচনকে সম্ভাব্য মাইলস্টোন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পরবর্তী কয়েক মাসে দুইটি বাসের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়িয়ে সপ্তাহে সাত দিন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, এবং অতিরিক্ত রুট যোগ করার সম্ভাবনা সরকারী আলোচনায় রয়েছে। যদি ভিসা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংক্রিয় হয়, তবে এই আন্তর্জাতিক বাস সেবা দক্ষিণ এশিয়ার পরিবহন নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments