ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম মঙ্গলবার একটি রিমান্ড আদেশ দেন, যেখানে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের মামলায় এক ভূমি ব্যবসায়ীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হবে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের আগে মামলাটি বেশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করেছে।
মামলাটি মূলত ৫ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানা-এ এক নারী সার্জেন্টের অভিযোগে শুরু হয়। তিনি জানান, একই সময়ে তিনি একটি পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই) দ্বারা ধর্ষণ এবং ব্যবসায়িক চুক্তির ছদ্মবেশে ১৫ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার শিকার হয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ আছে যে, অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম জাহিদ খান নামের একজন ভূমি ব্যবসায়ীকে বিবাদী হিসেবে দায়ের করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে রিমান্ডের তথ্য প্রদান করেন পুলিশ এসআই তাহমিনা আক্তার। তিনি জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা দেখা গেছে এবং আদালতে তা উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, লালবাগ থানা-র এসআই আব্দুর রাজ্জাক খান ১৮ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন, যা আদালত পরবর্তীতে শোনার তারিখ নির্ধারণের জন্য ব্যবহার করে।
মামলার পটভূমি প্রকাশে জানা যায়, গত বছরের ৫ নভেম্বর দুজনের মধ্যে ‘ম্যাট্রিমনি’ অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয়। এরপর দুজনের পরিবারে বিবাহের আলোচনা শুরু হয় এবং বিভিন্ন সময়ে দুজনের সাক্ষাৎ-সাক্ষাৎ হয়। অভিযোগকারী নারী জানান, বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত তার বাড়িতে ঘন ঘন আসা-যাওয়া করত এবং একাধিকবার শারীরিক আক্রমণ করার চেষ্টা করত।
অভিযুক্তের পক্ষ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় যে, তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং রিমান্ড বাতিলের জন্য জামিনের আবেদন করেন। তার আইনজীবী সাকিব আহমেদ আদালতে রিমান্ডের বাতিল চেয়ে আবেদন করেন, তবে আদালত তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রিমান্ডের সময়কালে অভিযুক্তের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। রিমান্ডের সময়কাল শেষ হওয়ার পর, মামলাটি পরবর্তী শুনানিতে অগ্রসর হবে, যেখানে প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে রিমান্ডের অর্থ হল, অভিযুক্তকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা, যাতে তদন্তে বাধা না আসে। তবে রিমান্ডের সময়কালে অভিযুক্তের জামিনের আবেদন দাখিলের অধিকার রয়ে যায়, যা আদালত তার যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
প্রসিকিউশন দল রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, কারণ অভিযোগে উল্লেখিত ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা দুটোই গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়ে। এছাড়া, অভিযুক্তের লালবাগের বাড়িতে ঘন ঘন আসা-যাওয়া এবং বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক আক্রমণ করার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের বিস্তৃতি প্রয়োজনীয় বলে তারা দাবি করে।
অভিযুক্তের আইনজীবী রিম্যান্ডের সময়কালকে অপ্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করে, তিনি বলেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ না থাকলে রিম্যান্ডের মাধ্যমে তার স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। তবে আদালত রিম্যান্ডের সময়কালকে যথাযথ বলে বিবেচনা করে, তদন্তের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
পরবর্তী পর্যায়ে, রিম্যান্ডের শেষের পর তদন্তকারী কর্মকর্তারা অতিরিক্ত সাক্ষ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করবেন। এরপর আদালতে চূড়ান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারণ হবে, যেখানে রিম্যান্ডের সময়কালে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে বিচারিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই মামলাটি সংবেদনশীল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে গোপনীয়তা রক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। আদালতের রায় ও পরবর্তী তদন্তের ফলাফল জনসাধারণের কাছে প্রকাশের আগে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।



