টুর্কি ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বিতর্কের মুখে, একটি তৃতীয় লিগের ম্যাচে গার্ডেনার গুলিবিদ্ধ সিগলকে রক্ষা করে নৈতিকতা পুনরুদ্ধার করা হয়। এই ঘটনা সপ্তাহান্তে ইস্তাম্বুলের ইয়ুর্দুম স্পোর এবং মেভ্লানাকাপি গুজেলহিসার দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ঘটেছে।
টুর্কি ফুটবলের সাম্প্রতিক সংকটের মূল কারণ হল জুয়া স্ক্যান্ডেল, যার ফলে ১৪৯ জন ম্যাচ অফিসার এবং এক হাজারেরও বেশি খেলোয়াড়কে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই বড় স্ক্যান্ডেল দেশের ফুটবলের সুনামকে নষ্ট করলেও, মাঠের বাইরে ছোট ছোট মানবিক কাজগুলো নতুন আলো জ্বালাতে পারে।
ম্যাচের ২২য় মিনিটে ইয়ুর্দুম স্পোরের গোলকিপার মুহাম্মদ উয়ানিক বলটি হাতে নেন এবং দ্রুত ক্লিয়ারেন্সের চেষ্টা করেন। উচ্চতায় মারতে গিয়ে বলটি নিম্নগামী সিগলকে আঘাত করে, যা আকাশে এক মুহূর্তের জন্য উড়ে গিয়ে মাটিতে ভয়ানক শব্দে পড়ে।
সিগলটি মাটিতে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের ক্যাপ্টেন গানি কাটান বলটি উপেক্ষা করে পাখিটিকে সাহায্য করার দিকে ঝুঁকেন। তিনি তৎক্ষণাৎ পাখির পাশে গিয়ে বুকের ওপর হালকা চাপ দিয়ে সিপিআর (CPR) শুরু করেন, যেন কোনো মানব রোগীর ক্ষেত্রে করা হয়।
গানি কয়েকবার চেস্ট কম্প্রেশন করার পর পাখির চোখে এক ঝলক এবং পা-তলায় সামান্য নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়। এই সূক্ষ্ম জীবনের সংকেত তাকে আরও কিছুক্ষণ চাপ দিতে উদ্বুদ্ধ করে, ফলে পাখির শ্বাসপ্রশ্বাসে সামান্য উন্নতি দেখা যায়।
পাখির অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার পর গানি সেটিকে পুনরুদ্ধার অবস্থায় রাখেন এবং সতর্কভাবে তুলে নেন। উল্লেখযোগ্য যে গানির কোনো চিকিৎসা প্রশিক্ষণ নেই এবং তিনি কোনো প্রফেশনাল সাপোর্ট সিস্টেমের সাহায্য ছাড়াই এই কাজটি সম্পন্ন করেছেন।
এই মানবিক কাজটি টুর্কি ফুটবলের বর্তমান নৈতিক সংকটের মধ্যে এক ধরনের সান্ত্বনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। খেলোয়াড়, কোচ এবং দর্শকরা গানির এই তৎপরতাকে প্রশংসা করে, যা মাঠের বাইরে মানবিক দায়িত্বের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ম্যাচের ফলাফল ও পরবর্তী লিগের সময়সূচি মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ না থাকলেও, গার্ডেনার এই ছোট কাজটি টুর্কি ফুটবলের নৈতিক পুনর্গঠনে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



