ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি—শিল্পকলা একাডেমিতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ শিরোনামের বই উন্মোচন অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালীভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সময়ের কঠিন পরীক্ষা পার করে তিনি এখন জনতার অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে ‘তারিক চয়ন’ সম্পাদিত প্রবন্ধ সংকলনটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রীর বক্তব্য শোনানো হয়। স্বপন উল্লেখ করেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মুখে তারেক রহমানের দৃঢ়তা এবং কর্মক্ষমতা তাকে এই মর্যাদায় পৌঁছে দিয়েছে। তিনি যোগ করেন, এই সাফল্য অর্জন ও রক্ষার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
মন্ত্রীর মতে, তারেক রহমানের স্থায়িত্বের পেছনে তার ব্যক্তিগত মানবিক গুণাবলি কাজ করেছে। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পারিবারিক মূল্যবোধ থেকে তিনি মানবিক গুণাবলি অর্জন করেছেন, যা তার নেতৃত্বকে দৃঢ় করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরা বইটির বিষয়বস্তু ও তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে আলোচনা করেন। তবে, কোনো বিরোধী দলের প্রতিনিধির মন্তব্য রেকর্ড করা যায়নি; উপস্থিতি ও মন্তব্যের দিক থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়নি।
বিপিএন ও আওয়ামী লীগের নেতারা এখনও এই প্রকাশনা ও মন্ত্রীর মন্তব্যের ওপর স্পষ্ট মতামত দেননি। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, বিরোধী দলগুলো ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘোষণাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, তবে বর্তমানে কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের অবিসংবাদিত নেতারূপে স্বীকৃতি তার পার্টির ভিতরে ও বাহিরে সমর্থন বাড়াতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এই স্বীকৃতি দলীয় ঐক্য ও ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেন, একক নেতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা রাজনৈতিক বহুমুখিতা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা বলেন, সময়ের সাথে সাথে নেতৃত্বের গুণাবলি ও নীতি-নির্ধারণে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি, যাতে জনমতকে সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করা যায়।
বই উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রকাশিত সংকলনে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশ্লেষণ ও তার নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে তার শুরুর দিন থেকে বর্তমান পর্যন্ত রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, নীতি-নির্ধারণ এবং জনসেবার দিকগুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
মন্ত্রীর মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত অতিথিরা তারেক রহমানের মানবিক গুণাবলিকে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা জোর দেন, মানবিকতা ও ন্যায়বিচার যদি নেতৃত্বের ভিত্তি হয়, তবে তা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই অনুষ্ঠানের পর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর অফিস একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়েছে, সরকার দেশের নেতাদের মানবিক গুণাবলি ও নৈতিক মানদণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং তা দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করে।
বিপিএন ও আওয়ামী লীগ উভয়ই এখনো এই বিবৃতি ও মন্তব্যের ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অনুমান করছেন, উভয় দলই ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘোষণাকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্য এবং ‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ বই উন্মোচন অনুষ্ঠান দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। এই ঘোষণার প্রভাব কীভাবে নির্বাচনী গতিবিধি ও পার্টির অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলবে।



