কেরালা স্টোরি ২ – গোজ বিয়ন্ড ছবির টিজার মুছে ফেলা নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে ছবির নির্মাতা সানশাইন পিকচার্সের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে খণ্ডন করা হয়েছে।
সানশাইন পিকচার্স জানিয়েছে যে, টিজার বা ট্রেলার কোনোভাবে সরানো হয়নি এবং সব অফিসিয়াল চ্যানেলে এখনও উপলব্ধ। এছাড়া কোনো আদালত থেকে টিজার মুছে ফেলার আদেশ জারি করা হয়নি, কারণ মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
প্রতিষ্ঠান মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করেছে যে, যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে না দিয়ে সঠিক তথ্য প্রচার করা হোক, যাতে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি না তৈরি হয়।
এই বিবৃতি প্রকাশের পর কেরালা হাই কোর্টে ছবির সার্টিফিকেশন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বিচারপতি বেচু কুরিয়ান থমাস তিনটি পিটিশন শোনেন, যেগুলো ছবির মুক্তি থামানো ও সার্টিফিকেশন বাতিলের দাবি করে।
বিচারক উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্রীয় সিবিএফসি ছবির বিষয়বস্তুতে বিশেষ দায়িত্ব বহন করে, বিশেষ করে যখন ছবিতে কেরালার ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয়কে কমিউনাল দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কোর্টে আলোচিত হয় কেরালার ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক সাদৃশ্য, এবং ছবিতে রাজ্যের চিত্রায়ন কীভাবে সঠিকভাবে করা হয়েছে তা নিয়ে। বিচারক সতর্ক করেন যে, পুরো রাজ্য জুড়ে ঘটনার বর্ণনা ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনমতকে উত্তেজিত করতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সিবিএফসির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা ছবির বিষয়বস্তুতে সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনা করে অনুমোদন দেয়। কোর্টের মন্তব্যে এই দায়িত্বের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে।
বিচারক আরও উল্লেখ করেন যে, ছবির বিষয়বস্তু যদি কোনো ধর্মীয় বা কমিউনাল উত্তেজনা বাড়ায়, তবে তা অনুমোদনযোগ্য নয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা সংশোধন করতে হবে।
সানশাইন পিকচার্সের বিবৃতি অনুযায়ী, টিজার ও ট্রেলার এখনও সব প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় এবং কোনো কন্টেন্ট মুছে ফেলা হয়নি। তারা মিডিয়াকে অনুরোধ করে যে, গুজব ছড়িয়ে না দিয়ে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করা হোক।
কোর্টের শুনানিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছবির বিষয়বস্তু রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি ও সামাজিক ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে কিনা, তা নির্ণয় করা প্রয়োজন। এই দিক থেকে সিবিএফসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
এই মামলায় এখনো কোনো চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়নি, তবে বিচারক সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সতর্ক করেছেন যে, ছবির প্রকাশের আগে বিষয়বস্তুতে যথাযথ সমন্বয় করা আবশ্যক।
সামগ্রিকভাবে, ছবির টিজার মুছে ফেলা গুজব সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে, এবং কেরালা হাই কোর্টে ছবির সার্টিফিকেশন ও বিষয়বস্তু নিয়ে গভীর আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা আদালতের পরবর্তী রায়ের ওপর নির্ভর করবে।



