দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সরকারী সচিবালয়ের মন্ত্রণালয় অধীন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে পেশাদারিত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা ও সততার ভিত্তিতে জাতিকে সমৃদ্ধিশালী গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য, আর তা অর্জনের জন্য দুর্নীতি ও অনিয়মের কোনো জায়গা থাকবে না।
সভা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান পরিচালনা করেন এবং এতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হোসেইনও অংশ নেন। দুলু মন্ত্রীর বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়, সরকারি তহবিলের অপচয় রোধে প্রতিটি ধাপে কঠোর তদারকি প্রয়োজন, যাতে প্রকল্পের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে। তিনি বলেন, প্রকল্প বাছাইয়ের সময় উপযোগিতা নিশ্চিত করা এবং বাস্তবায়নের সময় সঠিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য।
দুলু ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নীতিমালা অনুসারে কাজ করা জরুরি। এ ধরনের পেশাদারিত্বের অভাব হলে নির্বাচনী ইশতেহারকে বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হোসেইনও একই সভায় সরকারের ত্রাণ কাজের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রাণ কার্যক্রমে প্রযুক্তি ও তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকর সেবা প্রদান করা সম্ভব। তদুপরি, তিনি বলছেন, ত্রাণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়াতে ডিজিটাল রেকর্ড ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুলু যে পেশাদারিত্বের আহ্বান জানিয়েছেন, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে পার্টির জনমত গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতিগুলি যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ভোটারদের মধ্যে পার্টির বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, যে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নীতি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য।
এই সভা নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায়, দুলু ও অন্যান্য কর্মকর্তার মন্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারণে পেশাদারিত্বের ওপর জোর দেওয়া হলে, ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নেও একই মানদণ্ড প্রয়োগের সম্ভাবনা বাড়বে।
সারসংক্ষেপে, দুলু এবং তার সহকর্মীরা সরকারী তহবিলের সঠিক ব্যবহার, প্রকল্পের গুণগত মান রক্ষা এবং জনসাধারণের আস্থা অর্জনের জন্য কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি বিএনপি ইশতেহারের বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে পেশাদারিত্বের এই বার্তা রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



