২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিটি কর্পোরেশন‑১ শাখা থেকে ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে নতুন প্রশাসক হিসেবে মো. আবদুস সালাম, মো. শফিকুল ইসলাম খান, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং মো. শওকত হোসেন সরকারকে নাম করা হয়।
প্রশাসক পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম খান ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। অন্য তিনজন—আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন খান ও শওকত হোসেন সরকার—দলীয় মনোনয়নও পাননি।
জাতীয় নাগরিক দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলামোটরের এনসিপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই নিয়োগকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের জন্য এই ধরনের পদবিন্যাসকে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ বলা যায়।
ভুঁইয়া বলেন, নির্বাচনের পর যখন রাজনৈতিক সরকার দায়িত্বে আসে, তখন ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির বদলে দলীয় বা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করা স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের বিপরীত। তিনি এ বিষয়ে সরকারের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়াকে সমালোচনা করেন।
প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় ভুঁইয়া তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মেয়াদ না জানলে এই পদগুলোকে আজীবন নিয়োগের মতো ধরা যেতে পারে, যা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের স্বাভাবিক শর্তের বিরোধী।
জাতীয় নাগরিক দলের মুখপাত্রের মতে, ছয়টি সিটি কর্পোরেশন প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাচিত প্রতিনিধিহীন অবস্থায় রয়েছে। এই শূন্যতা নাগরিক সেবায় বাধা সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা হ্রাস করেছে।
এ কারণে তিনি দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজনের দাবি তোলেন। তিনি জোর দেন, নির্বাচিত প্রতিনিধির উপস্থিতি না থাকলে নাগরিকদের মৌলিক সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা হ্রাস পায়।
প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপনটি ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হওয়ায়, ভুঁইয়া উল্লেখ করেন, সময়সীমা না থাকায় এই পদগুলোকে স্থায়ীভাবে ধরে রাখা হতে পারে। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়াকে উল্লেখ করে, বিষয়টি নিয়ে স্পষ্টতা দাবি করেন।
সাময়িকভাবে, সরকারী দিক থেকে এই নিয়োগের পেছনের কারণ বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরেও সরকারী কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি।
জাতীয় নাগরিক দল এই নিয়োগকে রাজনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে করা বলে সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দ্রুত বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার হিসেবে দাবি করছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, নির্বাচনের আগে বা পরে এমন পদবিন্যাসের মাধ্যমে দলীয় সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তবে দলটি স্পষ্টভাবে বলেছে, এই পদগুলোকে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।
ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের জন্য সরকারী দিক থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা দেশের নাগরিক সেবার গতি ও স্বচ্ছতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। জাতীয় নাগরিক দল এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছ থেকে দ্রুত ব্যাখ্যা ও কার্যকরী পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে শেষ করেন।



