রাশিয়ার পূর্ণমাত্রিক আক্রমণের চার বছর পরও ইউক্রেনের প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলো কেবল টিকে নয়, নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। এডটেক ক্ষেত্রের প্রিপ্লি এই বছরই ইউনিকর্ন মর্যাদা অর্জন করে, এবং কিয়েভের অফিসে কর্মীরা যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও কেক কাটিয়ে এই সাফল্য উদযাপন করেছে।
প্রিপ্লি সম্প্রতি তৃতীয় ফান্ডিং রাউন্ড সম্পন্ন করে, যার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০ জন ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এই নিয়োগের এক তৃতীয়াংশ ইউক্রেনের মধ্যে থাকবে, যেখানে কোম্পানির মোট ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের তৃতীয় ভাগ ইতিমধ্যে কাজ করছে। এভাবে প্রিপ্লি দেশের মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে।
প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের উদ্ভাবনগুলো সর্বাধিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কারণ নতুন প্রযুক্তি দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে একই সময়ে ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা অন্যান্য সেক্টরেও দৃশ্যমান, যা ইউক্রেনের সামগ্রিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
যুদ্ধের সময় কর্মশক্তি নিয়োগে বিশেষ চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়, কারণ বড় আকারের আক্রমণকারীকে মোকাবেলা করতে দেশটি মোবিলাইজেশন এড়াতে কঠোর নীতি গ্রহণ করে। তবু সরকার এমন স্টার্টআপগুলোকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ কর্মচারীরা ড্রাফ্ট থেকে রক্ষা পায়, যদি তাদের কাজ দেশের নিরাপত্তায় অবদান রাখে।
এই নীতির অধীনে কাজ করা এক উদাহরণ হল অ্যাস্পিচি, যা ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং যুদ্ধের সূচনায় সম্পূর্ণ দিক পরিবর্তন করে। বর্তমানে এটি লুমিনিফাই নামে একটি মিক্সড-রিয়ালিটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের সেবা প্রদান করে এবং যুদ্ধের ট্রমা মোকাবেলায় ইউক্রেনীয় জনগণকে সহায়তা করে।
লুমিনিফাই সামরিক ইউনিটের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে এবং প্রায় এক ডজন ক্লিনিকের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে, যারা মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে। এই সেবা সৈনিক, প্রাক্তন সৈনিক, শোকাহত পরিবার এবং পশ্চিম ইউক্রেনে বা বিদেশে স্থানান্তরিত লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য উপলব্ধ। কিয়েভে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্যও মানসিক চাপের মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ, যা এই প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রতিষ্ঠাতা ভিক্টর সাময়িলেনকোর মতে, “সবারই কষ্ট হচ্ছে। আমার মেয়ে কয়েকটি নববর্ষ ও বড়দিন ভূগর্ভে উদযাপন করেছে; ফলে প্রভাব বিশাল।” এই মন্তব্যগুলো যুদ্ধের দৈনন্দিন বাস্তবতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবার জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
শীতকালে বিদ্যুৎ গ্রিডে ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ায় কিয়েভের জীবনযাত্রা প্রভাবিত হয়েছে। শহরের অবকাঠামোতে ধারাবাহিক ক্ষতি সত্ত্বেও, প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলো তাদের সেবা চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে জনগণের সহায়তা বাড়াচ্ছে।
কিয়েভ-ভিত্তিক আইটি সেক্টরের সিএমও নাতালি ট্রুবনিকোভার উল্লেখ করেন, যে এই কঠিন সময়ে প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনই দেশের পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি। স্টার্টআপগুলো কেবল অর্থনৈতিক দিক থেকে নয়, সামাজিক ও মানসিক দিক থেকেও দেশের পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সারসংক্ষেপে, ইউক্রেনের প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলো যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও বৃদ্ধি পাচ্ছে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সমাধান প্রদান করছে। এই প্রবণতা দেশের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সামাজিক পুনর্গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।



