ঢাকায় অমর একুশে বইমেলা আগামীকাল থেকে বাংলা একাডেমী ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দুই ভাগে একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেবে, যার মধ্যে বাংলা একাডেমীর প্রাঙ্গণে ৮১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে ৪৬৮টি স্টল স্থাপন করা হবে। উভয় স্থানের মিলিত ইউনিট সংখ্যা ১,০১৮, যা পূর্বের মেলার তুলনায় একই মাত্রা বজায় রাখে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের নিকটে গাছতলায় ‘লিটল ম্যাগাজিন চত্বর’ গঠন করা হয়েছে, যেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনের স্টল বরাদ্দ করা হয়েছে। এই চত্বরটি তরুণ লেখক ও স্বতন্ত্র প্রকাশনার জন্য বিশেষভাবে সাজানো, যাতে পাঠকরা সহজে বিভিন্ন রকমের সাময়িক ও অনলাইন প্রকাশনা অনুসন্ধান করতে পারে।
বইমেলাকে পরিবেশ‑সচেতন ‘জিরো ওয়েস্ট’ মেলায় রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেলায় পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ, ধূমপানও অনুমোদিত নয়, এবং স্টল, ব্যানার, ফাস্ট ফুড ও কফি শপের সব উপকরণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য জাট, কাপড়, কাগজ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত পানি ছিটানো হবে, ধুলা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সমগ্র মেলায় মশকনিধন ব্যবস্থা থাকবে।
বিন্যাসের ক্ষেত্রে পূর্বের মেলার মতোই কাঠামো বজায় রাখা হয়েছে, তবে মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে মেলার প্রধান বাহিরপথটি মন্দির গেটের কাছাকাছি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন এলাকায় মোট চারটি নতুন প্রবেশ‑বাহিরপথ স্থাপন করা হয়েছে, যা ভিড় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
খাদ্য স্টলগুলোকে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানার চারপাশে সাজানো হয়েছে, যাতে খাবার ও পানীয়ের প্রবেশ সহজ হয় এবং মেলার মূল কার্যক্রমে কোনো বাধা না আসে। রমজান মাসের বিশেষত্ব বিবেচনা করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে মেলায় উপস্থিত মুসলিম দর্শকদের জন্য সুরা তারাবিহের নামাজের সুব্যবস্থা করা হবে, পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রসাধনকক্ষ ও শৌচাগার সুবিধা চালু থাকবে।
শিশুদের জন্য আলাদা চত্বর গঠন করা হয়েছে, যেখানে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান মোট ১০৭টি ইউনিট পরিচালনা করবে। এই চত্বরটি শিশুদের স্বতন্ত্রভাবে বই নির্বাচন ও কেনার সুযোগ দেয়, এবং নিরাপদে ঘোরাফেরা করার জন্য পর্যাপ্ত স্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার বিকেল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ চালু থাকবে, যাতে ছোট বাচ্চারা বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে।
বইমেলার মূল মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রকাশনা, সাহিত্য ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সেমিনারের পর বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনা পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত আকর্ষণ তৈরি করবে।
অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশু‑কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করা হবে, যা তরুণ প্রতিভাদের উৎসাহিত করবে। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকাশকদের নতুন প্রকাশনা উপস্থাপন করার সুযোগ থাকবে।
বইমেলা শুরু হওয়ার আগে দর্শকদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ: পরিবেশ‑সচেতন উপকরণ ব্যবহার করা স্টলগুলোতে বেশি সময় কাটান, কারণ সেগুলোতে প্রায়ই বিশেষ ছাড় ও উপহারের ব্যবস্থা থাকে। রমজান মাসে নামাজের সময়সূচি মেলার ঘোষণাপত্রে উল্লেখ থাকবে, তাই আগেভাগে পরিকল্পনা করে অংশগ্রহণ করা সুবিধাজনক। শিশুচত্বরের ‘শিশুপ্রহর’ সময়ে শিশুদের সঙ্গে গিয়ে তাদের পছন্দের বই নির্বাচন করুন, যাতে তারা পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।
মেলার সমগ্র সময়সূচি ও প্রবেশ‑বাহিরপথের তথ্য মেলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আপডেট করা হবে, তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য তা অনুসরণ করা উচিৎ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বইপ্রেমী, শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোকে একত্রিত করে সমৃদ্ধ পাঠ্য সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।



