রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকার মধ্যে ইউইফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে‑অফের প্রথম লেগে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের বিরুদ্ধে গিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নির আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠে। ম্যাচটি গত মঙ্গলবার লিসবনের এস্তাদিও দা লুজে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভিনিসিয়াস রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়েরকে জানিয়ে দেন যে তাকে বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। রেফারির হস্তক্ষেপে খেলা দশ মিনিটের বেশি বিলম্বিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদ ১-০ স্কোরে জয়ী হয়।
ভিনিসিয়াসের সহকর্মী কিলিয়ান এমবাপ্পে পরে প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে প্রেস্টিয়ান্নি তাকে পাঁচবার “বানর” বলে সম্বোধন করেছে। এই অভিযোগের পর বেনফিকার পক্ষ থেকে প্রেস্টিয়ান্নির উপর এক ম্যাচের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তবে ক্লাবটি তা আপিল করে এবং খেলোয়াড়টি মাদ্রিদে ফিরে দ্বিতীয় লেগের জন্য প্রস্তুত হয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান কোচ আলভারো আরবেলোয়া এই ঘটনাকে ইউইফার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে, “বর্ণবিরোধী নীতি শুধুমাত্র নান্দনিক চিহ্ন নয়, বাস্তবে কার্যকর হতে হবে” বলে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি ইউইফা সত্যিকারের পরিবর্তন চায়, তবে এই ধরনের ঘটনা আর দমিয়ে রাখা যাবে না”।
গোলকিপার থিবাউট কুর্তোয়াও একই দৃষ্টিকোণ থেকে মন্তব্য করেন, “ফুটবলে আর বর্ণবাদী আচরণ সহ্য করা যাবে না। ভিনিসিয়াসের মুখোমুখি হওয়া সমস্যাগুলো মাঠের ভিতরে ও বাইরে দু’ই জায়গায় ঘটেছে”। কুর্তোয়া জোসে মোরিনহোর মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন, যেখানে মোরিনহো ভিনিসিয়াসের একমাত্র গোলের উদযাপনকে এই ঘটনা সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, “যদি কোনো খেলোয়াড় হোমোফোবিক শব্দ ব্যবহার করে থাকে, তা ততটাই অনুচিত”।
প্রেস্টিয়ান্নির বিরুদ্ধে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা এখনও তদন্তাধীন, এবং ইউইফা এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। বেনফিকা ক্লাবের আপিলের ফলে খেলোয়াড়টি দ্বিতীয় লেগে অংশগ্রহণের অনুমতি পেয়েছে, তবে তার আচরণ নিয়ে তদন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় লেগটি বুধবার রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উভয় দলই প্রথম ম্যাচের ফলাফলের ভিত্তিতে পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত। রিয়াল মাদ্রিদ এই ম্যাচে ভিনিসিয়াসের পারফরম্যান্সকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে, আর বেনফিকা দলটি প্রেস্টিয়ান্নির উপস্থিতি নিয়ে বিতর্কের পরেও মাঠে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রাখতে চাচ্ছে।
ইউইফা পূর্বে বর্ণবিরোধী নীতি গ্রহণের কথা ঘোষণা করলেও, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমালোচনার মুখে রয়েছে। আরবেলোয়া ও কুর্তোয়া উভয়েই জোর দিয়ে বলছেন, “এই মুহূর্তে ফুটবলে বর্ণবাদী আচরণ বন্ধ করা জরুরি, নইলে খেলাটির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে”। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেছে যে ইউইফা দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকার খেলোয়াড়, কোচ এবং ক্লাব ব্যবস্থাপনা সকলেই বর্ণবিরোধী নীতি বাস্তবায়নে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। ভিনিসিয়াসের সঙ্গে যুক্ত এই ঘটনা ক্রীড়া জগতে বর্ণবাদ মোকাবেলায় নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করেছে এবং ইউইফার নীতি বাস্তবায়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



